• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
কে হচ্ছেন পরবর্তী ডিএমপি কমিশনার

ছবি : বাংলাদেশের খবর

মহানগর

কে হচ্ছেন পরবর্তী ডিএমপি কমিশনার

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ০৯ জুন ২০১৯

বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদ বলে বিবেচিত ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার পদটি খালি হতে যাচ্ছে চলতি বছরের আগস্ট মাসে। এই মাসের শেষ দিকে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া অবসরে যাবেন। ডিএমপির সর্বোচ্চ এই পদটি পাওয়ার জন্য অনেকেই মুখিয়ে আছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোর তদবির শুরু করেছেন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে কে পেতে যাচ্ছেন এই সোনার হরিণের নাগাল।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি থেকে আছাদুজ্জমান মিয়াকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই থেকে প্রায় সাড়ে ৪ বছর ধরে তিনি ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অবশ্য দায়িত্ব পালনকালে তিনি সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। ফলে তিনি আবারো মেয়াদ বাড়িয়ে চুক্তিভিত্তিক হিসেবে থাকার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং চাকরির মেয়াদ শেষে তাকে অবসরে যেতেই হচ্ছে। তিনি এখন নিজের আশা বাদ দিয়ে চাচ্ছেন সদ্য ডিআইজি থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি শাহাবুদ্দিন কোরেশীকে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার করতে। সেই হিসেবে তিনি শাহাবুদ্দিন কোরেশীর পক্ষে তদবিরও শুরু করেছেন।

গুঞ্জন আছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলামও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার পদপ্রত্যাশী। কারণ হিসেবে তার ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, জঙ্গি দমনে মনিরুল ইসলামের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর রীতিমতো জঙ্গিবাদ নিয়ে গবেষণা করেন। তার পরিকল্পনায় একের পর এক আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণেও তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। যে কারণে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে ডিএমপি কমিশনার পদটি অতিরিক্ত আইজিপি পদ মর্যাদার। মনিরুল ইসলাম হচ্ছে ডিআইজি। সেই হিসেবে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে তাকে এই পদে দেওয়া হবে কি না সেটা নিয়ে আছে কিছুটা সংশয়। অবশ্য সরকার চাইলে দিতে পারে। কারণ এই পদে এর আগে অনেক ডিআইজি চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

আরো আছেন সিআইডির প্রধান শফিকুল ইসলামের নাম। তিনি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি। শফিকুল ইসলাম ছাত্র জীবনে তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। ফলে বিএনপি শাসনামলে তিনি দেশের দুর্গম এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পানিশমেন্ট পোস্টিংয়ে ছিলেন একাধিকবার। ক্লিন ইমেজের অফিসার বলে তার আলাদা সুনাম আছে সরকারের কাছে। কারণ তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছেন। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে তিনি রেঞ্জের সব জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার সততা তথা ক্লিন ইমেজ বিবেচনায় তাকেই শেষ পর্যন্ত নিয়োগ দিতে পারেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা দাবি করেছেন।

অবশ্য উল্লিখিত ৩ জনের চেয়েও সিনিয়র অতিরিক্ত আইজিপি আবুল কাশেমের নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি বর্তমানে পুলিশের এন্ট্রি টেরোরিজম ইউনিট প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে সিনিয়র হিসেবে তাকেও যদি সরকার ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের অতীব একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ডিএমপি কমিশনার। এটা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা, তোড়জোড় থাকবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। পদ প্রত্যাশীরা চেষ্টা করবেন এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু  হবেন একজন। সার্বিক ক্যারিয়ার, কর্মদক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা বিবেচনায় সরকার প্রধান এই পদটিতে সিনিয়র-জুনিয়র নির্বিশেষে যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারে। সুতরাং বর্তমান কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া অবসরে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে সরকারপ্রধান এই পদটির জন্য যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই নিয়োগ দেবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads