• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪০৩

ছবি : সংগৃহীত

মহানগর

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪০৩

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৩ জুলাই ২০১৯

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪০৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর এ সংখ্যা ভেঙেছে আগের সব রেকর্ড। এটি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সর্বোচ্চ রোগীর সংখ্যা। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম) আয়েশা আক্তার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত এই ৪০৩ জন রোগীর মধ্যে ৪০১ জন ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ও দুজন ভর্তি হয়েছেন খুলনার হাসপাতালে।

নতুন আক্রান্ত ৪০৩ জন নিয়ে এ বছর জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ১৭৯ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ৫৯৬ জন। ৭ হাজার ১৭৯ জনের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যুর কথা বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম। যদিও রোগ নিয়ন্ত্রণ, রোগতত্ত্ব ও গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর) বলছে, ডেঙ্গুতে ১০ জনেরও বেশি মারা গেছেন।

এর আগে ২০ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় ২৮৫ জন এবং ১৯ জুলাই সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২৩৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে-এমনটাই তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এবার ডেঙ্গুর লক্ষণ ভিন্ন হওয়ায় বাড়ছে প্রাণহানির আশঙ্কা। উচ্চ তাপমাত্রা, তীব্র ব্যথা না থাকায় চিকিৎসকের কাছে যেতে যেমন দেরি হচ্ছে, তেমনি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়েও আছে বিভ্রান্তি। এ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট ন্যাশনাল গাইড লাইন ২০১৮-এর নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলেই রক্ত দিতে হবে এই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে রক্তের ঘনত্ব নির্ণয় করে দিতে হবে চিকিৎসা।

এদিকে সাত বছরের নীপা ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম থেকে ফিরে এখনো ঢাকা শিশু হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। কর্তব্যরত নার্স বলেন, যখন রোগী আমাদের কাছে আসে তখন রোগী শকে ছিল। যখন রোগীর হেমাটোক্রিটটা নরমাল থেকে কমে যায় তখনই আমরা রোগীকে রক্ত দিই।

একটা সময় ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্লাটিলেট হিসাবই সবার আগে বিবেচনা করা হতো। আর প্লাটিলেট লাখের নিচে নামলেই দেওয়া হতো রক্ত। তবে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট ন্যাশনাল গাইড লাইন ২০১৮ তে এসেছে নতুন নির্দেশনা। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্লাটিলেট দিয়ে রোগীর অবস্থা জানলেও ১০ হাজারের নিচে নামলে কিংবা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আগে দিতে হয় না রক্ত।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিশু হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা সুচ অথবা প্লাজমা দিয়ে শক রোগীকে প্রাইমারি ম্যানেজমেন্ট করার চেষ্টা করি। সেই সময় সব রোগীর রক্ত প্রয়োজন হবে তেমন নয়।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. এম মনির হোসেন বলেন, যে পর্যায়ে রোগী শকে চলে যায় ওটার নাম ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম। ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম মানে হলো রক্তনালির পুরগুলো খুলে যাওয়া, প্লাজমা লিকেজ হয়ে যায়। প্লাটিলেট এখন আমরা দিচ্ছি না, প্লাটিলেট এখন জরুরি না। কিন্তু প্লাটিলেট দেখে আমরা রোগীর অবস্থা শনাক্ত করি। রোগী খারাপের দিকে যাচ্ছে নাকি ভালোর দিকে।

আগে থেকেই হার্ট, কিডনি সমস্যা আছে, শিশু, প্রসূতি মা কিংবা যাদের ওজন একটু বেশি তাদের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪০৩ জনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৮ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১২ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৩ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৪৫ জন, বারডেম হাসপাতালে ৮ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১৫ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন, বিজিবি হাসপাতালে ৫ জন, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ১১ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৭ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১৭ জন, গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ৮ জন, কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১১ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৮ জন, খিদমা হাসপাতালে ৪ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ১৩ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খুলনার হাসপাতালে ২ জন ভর্তি আছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads