• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
পুরো ঢাকা ডেঙ্গুঝুঁকিতে, সর্বত্রই মিলছে মশার লার্ভা

ছবি : সংগৃহীত

মহানগর

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন

পুরো ঢাকা ডেঙ্গুঝুঁকিতে, সর্বত্রই মিলছে মশার লার্ভা

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ৩০ জুলাই ২০১৯

পুরো ঢাকা এখন ডেঙ্গুঝুঁকিতে, সর্বত্রই মিলছে এডিস মশার লার্ভা। খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি আজ-কালের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডেঙ্গুর ভয়াবহতা স্বীকার না করলেও এ প্রতিবেদনে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ডেঙ্গুরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হননি। তারা শুধু মিডিয়ায় ফাঁকা বুলি আওড়িয়েছেন। ফলে দিন দিন ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডেঙ্গুকে গুজব বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যে দুই মেয়রকে বেশি কথা না বলে মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণ ও মশা নিধনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আদালত একাধিকবার এবং প্রধানমন্ত্রী মশা মারার কার্যকর ওষুধ ছিটানোর জন্য দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, মশানিধনে সঠিক সময়ে দুটি সিটি করপোরেশনের কাজের ব্যর্থতার কারণেই ডেঙ্গু এতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দুই সিটি আলাদা হলেও সমস্যাকে আলাদা করার সুযোগ নেই। তার মধ্যে একটি হলো মশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। এটিকে অখণ্ডভাবে অ্যাড্রেস করতে হবে।

তিনি বলেন, দুই সিটির মেয়র এবং সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিরা এমন হাবভাব করছেন যেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তারা বাস্তবচিত্রের কথা স্বীকার করতে চায় না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪১টি এবং ঢাকা দক্ষিণের ৬৯টি এলাকায় সার্ভে পরিচালনা করা হয়। এতে দেখা যায়, আগের মতোই রাজধানীর মোহাম্মদপুর, গেণ্ডারিয়া, উত্তরা, গুলশান, বনানী, বনশ্রী ও ধানমন্ডির মতো এলাকাগুলোতে বাড়িঘর-অভিজাত স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা বেশি পাওয়া গেছে। গত ১৮ জুলাই থেকে গত শনিবার পর্যন্ত এই সার্ভে পরিচালনা করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কীটতত্ত্ববিদদের মাধ্যমে।

ওই সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তরের ৫৮ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণের ৭৮ শতাংশ এলাকায় বেশি মাত্রায় লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আবার নির্মাণাধীন ভবনের অস্থায়ী চৌবাচ্চা, মেঝেতে জমিয়ে রাখা পানি এবং এলাকার দোকান অধ্যুষিত এলাকায় ডাবের খোসা ও গ্যারেজের টায়ারের শতভাগেই লার্ভা মিলেছে। অন্যদিকে বড় মশার ক্ষেত্রে গত মার্চ মাসের চেয়ে এ দফার সার্ভেতে দশগুণ বেশি এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে ১৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রীতিমতো জরুরি অবস্থা চলছে। প্রত্যেক কর্মকর্তা ঘুম হারাম করে দিনরাত কাজ করছেন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎকরা ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসাসেবায় চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করছেন।

ডেঙ্গু সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস, বিশেষ করে গরম ও বর্ষার সময় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। এ বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে ডেঙ্গু জ্বর বেশি হচ্ছে। শীতকালে সাধারণত এই জ্বর হয় না বললেই চলে। শীতে লার্ভা অবস্থায় এই মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতে সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত মশা বিস্তার লাভ করে।

ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে এবং এই ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে হয়ে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটি ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads