• সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মহানগর

চট্টগ্রামে পূজার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থানে পুলিশ

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • প্রকাশিত ০৪ অক্টোবর ২০১৯

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও আসামের এনআরসি বিষয়কে মাথায় রেখে দুর্গাপূজায় চট্টগ্রামের নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

যদিও পুলিশ বলছে, হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রধান এ উৎসবে হুমকি বা ঝুঁকির কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে। তারপরও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের কমতি রাখতে চায় না তারা। তাই এসব বিষয়কে মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে এ বছর নগরী ও জেলা মিলে মোট সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সংখ্যা এক হাজার ৭৭৭টি। যেগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর ও জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা।

আজ শুক্রবার দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা। মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্গোৎসবে কোনো ধরনের ঝুঁকি কিংবা হুমকির খবর আমাদের কাছে নেই। তার পরও মানুষের মনে কোনো ধরনের শঙ্কা থাকলে তা দূর করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

একইভাবে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনাও জানিয়েছেন, মহানগরীর মতো জেলার পূজার নিরাপত্তায়ও বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীতে এ বছর ২৫৭টি মণ্ডপে পূজা হবে। যার মধ্যে ১১৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১১১টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২৮টি সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার মাহবুব বলেন, পূজার শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। প্রতিটি পূজা কমিটিকে বলে দেওয়া হয়েছে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের জন্য। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে তিনজন করে পোশাকি পুলিশ ও সাত-আটজন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। সাধারণ সময়ে দুটি থানায় একজন সহকারী কমিশনার দায়িত্বে থাকলেও, পূজার সময় নগরীর ১৬ থানায় ১৬ জন সহকারী কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের থানা এলাকায় নিরাপত্তা সমন্বয় করবে। এছাড়া কয়েকটি মণ্ডপ মিলে একটি করে মোবাইল টিমও গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কেউ বিরূপ কিছু পোস্ট দিয়ে উসকানি দিলে তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের সাইবার টিমগুলো সতর্ক আছে, যাতে কেউ এ ধরনের পোস্ট দিতে না পারে। পূজা নিয়ে কেউ যেন ‍গুজব সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি। কেউ এ ধরনের চেষ্টা করলে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলার ১৪টি উপজেলায় এক হাজার ৫২০টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৩৯৬টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৪৬২টি গুরুত্বপূর্ণ ও ৬৬২টি সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা দাবি করেছেন, জেলার কোথাও কোনো ধরনের হামলা কিংবা হুমকির শঙ্কা নেই। তারপরও পূজার নিরাপত্তায় রোহিঙ্গা সংকট, আসামের এনআরসি ও বিভিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার নিরাপত্তায় প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তার মধ্যে দুই হাজার ৭০০ জন চট্টগ্রাম জেলার নিজস্ব ফোর্স ও ২৫০ জন চট্টগ্রাম রেঞ্জ থেকে আনা হয়েছে।

এসপি বলেন, এ বছর প্রতিটি থানায় বই তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ওই থানা এলাকার পূজামণ্ডপের ছবি, কমিটিপ্রধানদের মোবাইল ফোন নম্বর, পাশাপাশি যাতায়াতের ম্যাপও করা হয়েছে। যাতে সহজে সেখানে পুলিশ যেতে পারে।

নগরীর মতো জেলায়ও মণ্ডপের গুরুত্ব ভেদে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়া জেলার আটটি সার্কেলের দায়িত্বরত আটজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং উত্তর ও দক্ষিণের দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সার্বিক নিরাপত্তার তদারকিতে থাকার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মিনা। একজন করে পুলিশ পরিদর্শকের নেতৃত্বে কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘিরে একটি করে মোবাইল টিম ও গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টিম রাখা হয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads