• মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬
সাড়ে তিনশ বিঘা জমি দখলমুক্ত

প্রতীকী ছবি

মহানগর

সাড়ে তিনশ বিঘা জমি দখলমুক্ত

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২১ জানুয়ারি ২০২০

চাপে রয়েছেন সরকারি জমির অবৈধ দখলদাররা। রাজধানীসহ সারা দেশের প্রায় সাড়ে তিনশ বিঘা সরকারি জায়গা অবৈধ দখল মুক্ত করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সরকারের এসব জমি দখল করে ব্যবহার করছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে সরকারি জমি অবৈধ দখলদার মুক্ত করার এই হিসাব পাওয়া গেছে। গত প্রায় এক বছরে সরকারি জমি থেকে দখলদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বছরের পর বছর প্রভাবশালী ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের নামে রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ দখল করে রাখা হয়েছে। দলখদাররা জমিগুলো বসবাস কিংবা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছেন। অনেকে সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়েও আয় করছেন। আর এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের মদদ রয়েছে। তারাও এসব থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভোগ করে আসছেন। একইভাবে ঢাকার বাইরেও এমন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল। ঢাকায় সরকারি জমির মালিকানা ও দেখভালে বড় দুটি সংস্থা কাজ করে। যাদের একটি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। অন্যটি হচ্ছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। সংস্থা দুটি এর বাইরে অন্য দায়িত্বগুলোও পরিচালনা করে থাকে। আর এই দুটি সংস্থার জবাবদিহিতা থাকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সময় রাজধানীতে থাকা সরকারি জমি উদ্ধারে কিছু অভিযান পরিচালনা হয়েছে। তবে সেটি খুব বেশি এগিয়ে নেওয়া যায়নি। অদৃশ্য কারণে এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেই সুশাসনে নজর দিতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় শ ম রেজাউল করিমকে। মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। সব মিলিয়ে সরকারি জমি উদ্ধারে মনোযোগ বাড়ে।

জানতে চাইলে শ ম রেজাউল করিম আলাপকালে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এরই মধ্যে আমরা ১০৭ একর সরকারি জমি দখলমুক্ত করেছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। মন্ত্রণালয়,  জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, রাজউকসহ সব পক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দখলদাররা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, এই অভিযান আমাদের অব্যাহত থাকবে। দখলদারকে বিতাড়িত করা হবে।

জানা গেছে, মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পর ঢাকার ধামালকোট মৌজায় ১০ একর জমি অবৈধ দখলদার হতে উচ্ছেদ করে। জমিটি একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দখল করে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে আসছিল। দখলমুক্ত করে ফ্ল্যাট নির্মাণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট রাস্তার পাশের শূন্য দশমিক ৫ একর জমি হতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদপূর্বক রাস্তা নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা। যশোর হাউজিং এস্টেটে রাস্তা, পার্ক, খেলার মাঠ, সবুজ চত্বরসহ ৩২ একর জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এটিও প্রায় ৩০ বছর বেদখলে ছিল। দিনাজপুর হাউজিং এস্টেটে দীর্ঘ ৪০ বছর পর রাস্তা, পার্ক, খেলার মাঠ, সবুজ চত্বর, আবাসিক প্লট-এর ৩৫ একর জমি হতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদপূর্বক উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে।

ঢাকার মিরপুরস্থ ৮নং সেকশনে দুয়ারীপাড়া এলাকায় ক ও খ ব্লকে ৩০ একর জমি উচ্ছেদ করে রাজউক। এরপর বরাদ্দকৃতদের মাঝে প্লট সরেজমিনে বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম নেওয়া হয়। নোয়াখালীর মাইজদী হাউজিং এস্টেটে প্রায় ১ একর জমি হতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদপূর্বক উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

জানতে চাইলে রাজউকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমাদের সরকারি জমি দখলমুক্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এর আগে রাজউক সদস্য হিসেবে কাজ করেছে। রাজধানীর চিত্র আমার জানা। বেদখলমুক্ত করার কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। কোনোভাবেই আমরা আর পিছু হটতে চাই না। 

অনুসন্ধানে জানা  গেছে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরের ৯২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, সরকার সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। শুধু আবাসন নয়, নিরাপদ আবাসন। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী, বস্তিতে বসবাসকারী ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সারা দেশে প্লট উন্নয়ন ও ফ্ল্যাট নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে।

জানা গেছে, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ড্রাইভওয়ে নির্মাণ এবং লেক পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৩টি খাল পুনঃখনন ও সম্প্রসারণ কাজ চলমান এবং ২৩টি খাল পুনঃখনন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পূর্বাচলে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুই লক্ষ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা মহানগরীর গুলশান, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ২০টি পরিত্যক্ত বাড়িতে ৩৯৮টি ফ্ল্যাট এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৫১টি পরিত্যক্ত বাড়িতে মোট ১ হাজার ৮২৪টি ফ্ল্যাট ও ৬৪টি ডরমেটরি নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার ৬১১টি প্লট উন্নয়ন ও ২ হাজার ৫৫৯টি ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে নতুন সরকারের এই মেয়াদে। এছাড়া ২ হাজার ২০০টি প্লটের উন্নয়ন কাজ চলছে। ৭ হাজার ২৬১ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ চলছে।

স্বল্প ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যার সমাধানকল্পে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে ৭৯টি ১৬ তলা ভবনে ৬ হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।  ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা উদ্বোধন করেছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads