• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
ads
ঈর্ষায় যেন না পুড়ি!

সংগৃহীত ছবি

মন

ঈর্ষায় যেন না পুড়ি!

  • সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
  • প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অন্যদের সবকিছুই ভালো, আর আমার যে কিছুই হচ্ছে না— এই মনোভাব থেকে যে মানসিক জ্বলন, ভালো না লাগা, রাগ— সেটাই ঈর্ষা। ঈর্ষায় জ্বলে-পুড়ে যখন সেই মানুষটির ক্ষতি কামনা করি এবং আপ্রাণ চেষ্টা করি ক্ষতি করতে, তখনই এক পা এক পা করে এগিয়ে যাই হিংসার দিকে। আর এর পরের ধাপ প্রতিশোধ নেওয়ার পালা। এবং একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজের কবর খোঁড়ার প্রস্তুতি।

অতএব! অতএব, ঈর্ষা যখন কেবলই হালকা জ্বলন, মানে যতক্ষণ তা ভয়াল হিংসায় পরিণত হয়নি, তখন থেকেই তাকে দমন করার চেষ্টা করতে হবে। এ বিষয়ে মনোচিকিৎসক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য হচ্ছে— এটি এমন কিছু কঠিন কাজ নয়। শুধু পরপর কয়েকটি ধাপ মেনে গেলেই হলো।

ঈর্ষা দমনের উপায়

- প্রথমেই জীবনে যা যা হয়েছে, যতটুকু হয়েছে তা মেনে নিতে হবে। মেনে নেওয়া মানে ভাগ্যের কাছে হেরে যাওয়া নয়। বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সঠিক রাস্তায় চলার প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু হতে পারে।

- দ্বিতীয় ধাপে তার কেন হয়েছে আর আমার কেন হলো না— তা নিয়ে যুক্তি দাঁড় করাতে হবে। ভাবতে হবে, কী কী গুণ থাকায় তিনি সফল হয়েছেন, সেসব গুণ আমার আছে কি না। না থাকলে তা অর্জন করার মানসিকতা বা পরিস্থিতি আছে কি? বিষয়গুলো পরপর লিখে ফেললে সহজে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

- গুণ থাকলে পরেরবার আমিও সফল হবো। না থাকলে হতাশ না হয়ে নিজের অন্য গুণগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। সেগুলো থাকায় আমি কী কী অর্জন করতে পেরেছি এবং করতে পারি তা চিহ্নিত করতে হবে।

- হতে পারে আমার কাছে ভালো পরিবার আছে, কাজ, বন্ধু বা এমন শখ রয়েছে যা মনের আরাম দেয়। তেমন হলে এসব অর্জিত গুণ প্রকাশের সুযোগও পেয়ে যাব। এর সাহায্যে নতুন কোনো কাজ শুরু করা যেতে পারে, যে বিষয়ে আগে কখনো ভাবিনি।

- অতৃপ্তি গ্রাস করলেও ভয় পাওয়া যাবে না। কারণ কম-বেশি অতৃপ্তি সবারই আছে। যাকে ঈর্ষা করছি তারও। তা সত্ত্বেও তিনি যদি সফল হতে পারেন, আমি পারব না কেন? সাফল্যের সংজ্ঞাটাই বা কী? ভালো থাকা তো?

- এক্ষেত্রে ঈর্ষার কারণের পক্ষে কখনো যুক্তি সাজানো যাবে না। অর্থাৎ পরিস্থিতি এরকম বলে আমার মনে ঈর্ষা জাগছে, তা কিন্তু নয়। মনে মনে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছি বলেই যাবতীয় কষ্ট।

- আবার এমনটিও ভাবতে পারি— প্রতিযোগিতা অন্যের সঙ্গে না হয়ে যদি নিজের সঙ্গে হতো? অর্থাৎ গত মাসে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এ মাসে যদি তার চেয়ে দু-এক কদম এগোতে পারতাম, তাকেই কি সাফল্য বলতাম না?

- এভাবে সফল হওয়ার প্রধান অস্ত্র একাগ্র হয়ে নিজের কাজ করে যাওয়া। সেটা না করে আমি সময় নষ্ট করেছি অন্যের দিকে নজর রেখে। অর্থাৎ মনোযোগে ঘাটতি। বলা যায়, ভুলতেই বসেছিলাম, ঈর্ষা চেপে ধরলে মনোযোগ আরো কমবে। ফলে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে নিজের কাছেই হেরেছি প্রতি মুহূর্তে।

- ঈর্ষা করে আমি দিন দিন পিছিয়ে পড়ছি। এভাবে এগোলে সর্ব অর্থে ‘হেরো’ প্রতিপন্ন হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। কাজেই যে মানুষটি মনে ঈর্ষা জাগাচ্ছেন, মনে মনে তাকে গুরুত্বহীন না করতে পারলে কিন্তু আমার মুক্তি নেই। সেই চেষ্টাই করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

- এসবের পাশাপাশি শুধু নাম-যশ ও অর্থের কথা না ভেবে, একটু নির্মল আনন্দ দেয় এমন দিকেও নজর দেওয়ার চেষ্টা করি। যেমন-

- সম্পর্কগুলো ভালো রাখার জন্য আন্তরিক হই। জীবনের চড়াই-উতরাই পেরুনোর সময় এদের সাহায্যেই নিজেকে ভালো রাখা সম্ভব।

- অপরের ক্ষতি করার কথা না ভেবে বরং উপকার করার চেষ্টা করতে হবে। এতে মানসিক শান্তি যেমন মিলবে, বাড়বে হিতাকাঙ্ক্ষীর সংখ্যা। বিপদে সাহায্য পাব।

- প্রতি মুহূর্তে বিভিন্নভাবে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে। সে পড়াশোনা করে হোক কিংবা মন দিয়ে কাজ করে। দেখা যাবে, তখন আমিই হয়ে উঠব অন্যের ঈর্ষার মানুষ, যা সাফল্যকেই ইঙ্গিত করে।

- জীবনে চলার পথে কী কী ভুল করেছি ও সেসব কারণে কীভাবে পিছিয়ে পড়েছি, কীভাবে মূল্যবান সব সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে তা ভেবে দেখতে হবে। সে সব ভুল শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিজের ভুল দেখার চোখ না থাকলে কিন্তু সাফল্য আসে না।

নিয়ম মেনে নিজেকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করব। শরীর সুস্থ থাকলে মনও সুস্থ থাকবে। ভুলভাল আবেগ আর সেভাবে জ্বালাতন করবে না, করলেও তা থাকবে নিয়ন্ত্রণে- এমনটাই বিশ্বাস।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads