• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK

‘এক হাতে’ রংপুরকে জেতালেন গেইল

১২তম ওভারের চতুর্থ বলটা কিছুটা ঝুলিয়ে করেছিলেন আফিফ হোসেন। ক্রিস গেইল করলেন কী, সপাটে এক হাতে ব্যাট চালিয়ে বলকে পাঠালেন মিড উইকেট বরাবর গ্যালারিতে! এক হাতেই ছক্কা! ম্যাচটা যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন, গেইল আসলে একাই বিপিএল থেকে ছিটকে ফেলেছেন খুলনা টাইটানসকেও।

বিপিএলের ‘এলিমিনেটর’ এ ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৬৭ রান করেছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা। মিরপুরের উইকেট বলছিল, এই রান কঠিন হবে রংপুরের জন্য। কিন্তু গেইল যেদিন ব্যাটিং করেন, সেদিন বধ্যভূমিতেই রানের ফোয়ারা ছোটাতে পারেন। ৫১ বলে অপরাজিত ১২৬ রানের ইনিংস খেলে ২৮ বল আর ৮ উইকেট হাতে রেখেই জেতালেন রংপুর রাইডার্সকে। এই জয়ে রংপুর চলে গেল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। বিদায় নিল খুলনা।   
রংপুরকে শুধু দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তোলাই নয়, এবারের বিপিএলকে গেইল উপহার দিয়েছেন প্রথম সেঞ্চুরিও। সেটাও যেনতেন সেঞ্চুরি নয়, দলের ৭৪ শতাংশ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। ৬ বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ১৪টি ছক্কা! এর আগে ৮ ম্যাচে গেইল ছক্কাই মেরেছিলেন ১৫টি। আজ এক ইনিংসেই এতগুলো ছক্কা! গেইল তো আর এমনিতেই নিজেকে ‘সিক্স মেশিন’ বলেন না!

 ক্যারিবীয় এই ওপেনারের ঝড়ে সতীর্থদের তেমন কিছু করতে হয়নি। বলা ভালো, সুযোগ পাননি। গেইলের সঙ্গে ৩৬ বলে ৩০ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন মোহাম্মদ মিথুন।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ

 

গেইলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে সোহাগ গাজীকে পাঠিয়ে কিছুটা চমকে দিয়েছিলেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি। সেই জুয়া কাজে লাগেনি। কিন্তু প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে খুলনার পেসার আবু জায়েদকে বিশাল ছক্কা মেরে গেইল বুঝিয়ে দেন, বড় ঝড় আসছে! পরের ওভারে মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে একাই আদায় করেছেন ১৬ রান। তৃতীয় ওভারে জোফ্রা আর্চারের হাতে বল তুলে দেন মাহমুদউল্লাহ। ওই ওভারে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর সোহাগ গাজিকে তুলে নেন আর্চার। তখনো খুলনাকেই ফেবারিট মনে হচ্ছিল। কিন্তু ঈশান কোণে দেখা দেওয়া ঝড়ের পূর্বাভাসটাই সত্যি হলো।

চতুর্থ ওভার থেকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত শুধুই গেইল–ঝড়! মিথুনের সঙ্গে ৭৬ বলে ১৪৬ রানের বিস্ফোরক জুটিতে তাঁর একারই ১২৬, যেখানে ১০৮ রানই এসেছে বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারি থেকে!
তার আগে ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনার কোনো ব্যাটসম্যানই বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। ন্যূনতম ত্রিশোর্ধ্ব রানের ইনিংসও কেউ খেলতে পারেনি। সর্বোচ্চ ২৯ রান এসেছে আরিফুল হকের ব্যাট থেকে। ২৮ রান করেন নিকোলাস পুরান এবং কার্লোস ব্রাফেটের অবদান ৯ বলে ২৫। রংপুরের হয়ে ২ উইকেট নেন লাসিথ মালিঙ্গা। তবু ১৬৭ অনেক বড় ইনিংস। 
কিন্তু ১৫.২ ওভারে খেলা শেষ করার পর গেইল বলতে পারতেন, রানটা আরেকটু বেশি করতে পারলে না, হে!