• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

সু চি’র সমালোচনায় রোহিঙ্গা কমিটি থেকে পদত্যাগ

রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’র গঠন করা আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন। ওই প্যানেল গঠনকে ‘লোক দেখানো’ এবং এর সদস্যদের ‘চিয়ারলিডার’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে এই প্যানেলের ভূমিকা ও অং সান সু চি’র ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিচার্ডসন। তিনি অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।

মিয়ানমার সরকার রিচার্ডসনকে এই প্যানেলে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এক সময় ক্লিনটন প্রশাসনে কাজ করা এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের ক্ষেত্রে সু চি’র ‘নেতৃত্বে নৈতিকতার ঘাটতি’ রয়েছে।

রিচার্ডসন বলেন, গত সোমবার এক বৈঠক চলার সময় সু চি’র সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে মিয়ানমারে আটক হওয়া রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রসঙ্গের অবতারণা করতেই সু চি ‘ক্ষিপ্ত’ হয়ে যান এবং এ বিষয়ে কথা বলা ‘অ্যাডভাইজরি বোর্ডের কাজ নয়’ বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

এছাড়া এই প্যানেল ‘নামেমাত্র’ এবং তাদের কাজ মূলত মিয়ানমারের সরকারকে তুষ্ট রাখা বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায় সরকারের জন্য ‘চিয়ার-লিডিং স্কোয়াড’ হিসেবে কাজ করবেন না বলেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

শান্তিতে নোবেলজয়ী ও স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি উদ্যোগে গত বছর এ আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করেছিল মিয়ানমার সরকার। এর উদ্দেশ্য ছিল রাখাইন রাজ্যের স্থিতিশীলতার জন্য সুপারিশ বাস্তবায়ন করা। ১০ সদস্যবিশিষ্ট এ উপদেষ্টা বোর্ডের পাঁচজন বিদেশি।

রিচার্ডসনের পদত্যাগের পর এখনো মিয়ানমার সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দেশটির রাখাইন রাজ্যে চলমান নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে প্রায় সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেনাবাহিনীর চালানো এই বর্বরতাকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ।