• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK

বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলা একাডেমির মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা যথারীতি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে। ঐ দিন বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি মেলার ওয়াই-ফাই সংযোগ ও ওয়েবসাইট উদ্বোধন করবেন।

মেলায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। বইমেলা চলাকালে ২২ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। একুশের গ্রন্থমেলা সম্পর্কে আজ বাংলা একাডেমি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানানো হয়।

একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিষারদ মিলনাতনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বাংলা একাডেমি ও বইমেলার ইতিহাস তুলে ধরেন এবং এবারের মেলার বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোকপাত করেন। একুশে গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ মেলার বিস্তারিত কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন, বাংলা একাডেমির সচিব আনোয়ার হোসেন, নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও মেলার প্রধান সহায়ক প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিও কামাল কাদের ছাড়াও আরও অনেকে।

ড. জালাল বলেন, মেলায় এবার আন্তজার্তিক সাহিত্য সম্মেলনে ১৫টি দেশের কবি লেখকরা যোগ দেবেন। ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি এই সম্মেলন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনও উদ্বোধন করবেন। এবার দেড় লাখ বর্গফুট এলাকায় মেলা হচ্ছে। স্টলের সংখ্যা সব মিলিয়ে আট‘শো’র বেশি। এর মধ্যে বইয়ের স্টল ৬৭০, লিটলম্যাগ ১৫০ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু সংখ্যক স্টল।

তিনি বলেন, মেলার ব্যবস্থানাপনায় এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হচ্ছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে পুলিশ, র‌্যাব অন্যান্য ফোর্স। তিনি জানান, মেলায় ২৫০টি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো মেলার সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভকে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, মেলায় বাংলা একাডেমি ১৪৬টি নতুন বই প্রকাশ ও বিক্রি করবে। এবার প্রকাশক ও বিক্রেতারা তাদের স্টলগুলোতে বই বিক্রিতে ২৫ ভাগ কমিশন দেবে। তিনি জানান, এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠান মঞ্চ হবে আরও বড় মাপের। ব্যবস্থাপনায় আরও জনবল বাড়বে। কবি, সাহিত্যিকদের প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলাদা একটি গেট স্থাপন করা হয়েছে।

ড. শামুসজ্জামান খান বলেন, মেলাকে সফল করার কাজ এগিয়ে চলছে। ভাষা আন্দোলনের মাসের প্রথম দিনে বিকেল তিনটায় মেলা উদ্বোধনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি মেলার আয়োজনে সর্বমহলের সহযোগিতার আহ্বান জানান।

প্রতিদিন দুপুর তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ও সরকারি ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের জন্য এক ঘন্টার বিরতি থাকবে। মেলার মূলমঞ্চে প্রতিদিনই থাকছে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক, গবেষক, চিন্তাবিদ ও কবিরা অংশ নেবেন। একাডেমির নিজস্ব দুটি ক্যান্টিন দর্শকদের জন্য সর্বক্ষণ খোলা থাকবে।