• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK

৭ মাসে ৪ লাখ ৩৫ হাজার টন চাল আমদানি

ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতি বছর ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হয়। এ ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ টন চাল আমদানি হয়েছে। এ সময় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যটির আমদানি কয়েক গুণ বেড়েছে। মূলত চাল আমদানিতে শুল্কহার কমিয়ে দেয়ার কারণে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে খাদ্যপণ্যটির আমদানি বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।

 

ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সবমিলে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে খাদ্যপণ্যটির আমদানির পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ৯৮৮ টন। পরের মাসে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৬৫ হাজার ৮৯৭ টন চাল আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এ স্থলবন্দর দিয়ে যথাক্রমে ৭৪ হাজার ৬২০ টন ও ৮২ হাজার ৫১২ টন চাল আমদানি হয়েছিল। নভেম্বরে পণ্যটির আমদানি কমে দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ১১১ টনে। গত ডিসেম্বরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি আরো কমে যায়। এ সময় মোট ৪৩ হাজার ৬৬৪ টন চাল আমদানি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ স্থলবন্দর দিয়ে খাদ্যপণ্যটির আমদানি ফের বেড়েছে। এ সময় ভারত থেকে মোট ৫৮ হাজার ৮৬৮ টন চাল আমদানি করেছে ভোমরার আমদানিকারকরা। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সবমিলে ২১ হাজার ১৬২ টন চাল আমদানি হয়েছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এ স্থলবন্দর দিয়ে খাদ্যপণ্যটির আমদানি কয়েক গুণ বেড়েছে।

 

সাতক্ষীরা শহরের তালতলা এলাকার চাল ব্যবসায়ী মহাদেব সাধু ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি করেন। তার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রতিদিন ১৮-২০ ট্রাক চাল আমদানি করছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে প্রতিদিন সাকুল্যে দু-তিন ট্রাক চাল আমদানি হতো। বর্তমানে দেশের বাজারে চালের চাহিদা বাড়তি। সে তুলনায় সরবরাহ বেশ কম। মূলত এ কারণে ভারত থেকে পণ্যটির আমদানি বাড়ানো হয়েছে। গত বন্যায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে সরকারও চাল আমদানিতে উৎসাহ দিচ্ছে। খাদ্যপণ্যটির আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। একদিকে বাড়তি চাহিদা, অন্যদিকে কম শুল্কহার— এ দুইয়ের জের ধরে ভারত থেকে চাল আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় আমদানিকারকরা।

 

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দীপংকর ঘোষ জানান, তার মালিকানাধীন মেসার্স সুন্দরবন ট্রেডার্সের আওতায় বর্তমানে ভারত থেকে প্রতিদিন ২২-২৫ ট্রাক চাল আমদানি করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাড়তি চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে চাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার পর থেকে খাদ্যপণ্যটির আমদানি কয়েক গুণ বেড়েছে। এদিকে ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী দিলওয়ার নওশাদ রাজু বণিক বার্তাকে বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার দূরত্ব তুলনামূলক কম। ফলে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানিতে পরিবহন ব্যয় অনেকটা কমে যায়। মূলত এ কারণে দেশীয় আমদানিকারকরা ভারত থেকে চাল আমদানিতে এ স্থলবন্দরটি বেছে নিয়েছেন। তাই বছরান্তে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতেও তেজিভাব দেখা গেছে।

 

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মো. রেজাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে ভোমরা স্থলবন্দর সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। বর্তমানে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হচ্ছে চাল। চলতি বছরের শুরুতে খাদ্যপণ্যটির দৈনিক আমদানি ১৪০ ট্রাক ছাড়িয়েছে। বিদ্যমান শুল্কহার বাড়ানো না হলে আগামী দিনগুলোয় ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানিতে এখনকার তেজিভাব অব্যাহত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।