• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK

ফেসবুক-গুগলে ভুয়া খবর দ্রুত ছড়ায়!

বস্তুনিষ্ঠ খবরের চেয়ে ভুয়া খবর তুলনামূলক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এটি বন্ধে শিগগরিই ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। গত ৮ মার্চ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত এক গবেষণা নিবন্ধে তারা ভুয়া খবরের পেছনে প্রযুক্তিগত, মানসিক ও সামাজিক কারণগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।


গবেষকরা বলছেন, ভুয়া খবরের কারণে আমাদের সমাজে কী খারাপ প্রভাব পড়ছে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ দরকার। তবে এজন্য আসলেই একটি জটিল গবেষণার দরকার। কারণ এখন অনেক বেশি ভুয়া খবর আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেগুলো বস্তুনিষ্ঠ খবরের চেয়ে অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আর এটাই আমাদের জন্য এখন বড় সমস্যা।


ইনফরমেটিক্স বিশেষজ্ঞ, স্যোসাল মিডিয়া অবজারভেটরি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং সেন্টার ফর কমপ্লেক্স নেটওয়ার্কস অ্যান্ড সিস্টেমস রিসার্চ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং গবেষণা প্রবন্ধটির সহ-লেখক মেনচজের জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অসংখ্য স্বয়ংক্রিয় পোস্ট যাচাই করে দেখেছেন। তারা দেখেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোস্ট হওয়া তথ্যগুলোই দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে।


ওই গবেষণায় প্রায় ছয় কোটির বেশি ফেসবুক স্বয়ংক্রিয় পোস্ট ও ৪ কোটি ৮০ লাখ টুইটার পোস্ট পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ ছাড়া গবেষকরা দেখেন, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের মাসে প্রতি একজন মার্কিন নাগরিক তিনটি করে ভুয়া খবর দেখেছেন।


মেনচজের বলেন, ২০১৬ সালের পর থেকে ভুয়া খবর আরো বেশি বেশি ছড়াচ্ছে। এই অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। এর জন্য বস্তুনিষ্ঠ খবরও দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। তা না হলে ভুয়া তথ্যের আড়ালে সঠিক তথ্যগুলো হারিয়ে যাবে। আর আমরাও একটা সমাধান অযোগ্য পরিস্থিতির মধ্যে পড়ব।


এর জন্য হাইস্কুল পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে ভুয়া সংবাদ ও এর নেতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান গবেষকরা।


তবে ভুয়া সংবাদের চেয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদেই পাঠকের চাহিদা বেশি বলে মনে করেন পয়েন্টার ইনস্টিটিউটের ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্কের পরিচালক আলেক্সিওস মান্টজারলিস। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের চাহিদা কমাতে পারেনি ভুয়া সংবাদ। ভুয়া খবরের প্রসার অনেক। তবে এর প্রভাব বেশি গভীরে যেতে পারেনি। ভুয়া খবরের ভিত্তিতে আদৌ পাঠকরা কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কি না, সেটি নিশ্চিতভাবে বলার সময় এখনো আসেনি। ভুয়া সংবাদ আমাদের গণতন্ত্রকে বিষাক্ত করে তুলছে কি না, সেটি বলার জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন।


ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কল্যাণে। সিএনএনের প্রতিবেদক জিম অ্যাকোস্টাকে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি ফেক নিউজ’! এরপর টুইটারে বার বার এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের মুখেও এখন ভুয়া খবর নিয়ে কথা শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দুতার্তে তার দেশের র‌্যাপলার নামের একটি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটকে ‘ভুয়া খবরের দোকান বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু হয়েছে। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন প্রায়ই তার সরকারের সমালোচনাকারী সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগ করে থাকেন। থাইল্যান্ড এরই মধ্যে ভুয়া সংবাদ প্রচার রোধে কারাদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করেছে। রোহিঙ্গা সঙ্কটে ফেক নিউজের অজুহাত তুলে রাখাইন রাজ্যে সংবাদমাধ্যমকে ঢুকতেই দিচ্ছে না অং সান সু চির সরকার।


জার্মানিতে ১ জানুয়ারি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভুয়া খবর ও অবৈধ বিষয়বস্তু সরিয়ে নিতে একটি আইন জারি হয়েছে। এই আইন ভঙ্গ করলে বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।


এডেলম্যান ট্রাস্ট ব্যারোমিটারের বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, ফেসবুক ও গুগলের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া সংবাদে মানুষের আস্থা সবচেয়ে কম। এরই মধ্যে গুগল ও ফেসবুক জানিয়ে দিয়েছে, ভুয়া খবর ঠেকাতে জোরেশোরে পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা।


মার্ক জাকারবার্গ ইতোমধ্যে বলেছেন, ভুয়া খবরের মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর তার প্রতিষ্ঠান। গুগল ও ফেসবুক দুই প্রতিষ্ঠানই ভুয়া খবরের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য অসংখ্য কর্মী নিয়োগ দেবে।