• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৯ মহররম ১৪৪০
BK

মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পেছনে ফেসবুককে দায়ী করলো জাতিসংঘ

মিয়ানমারে ঘৃণাবাচক বাক্য প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দেয়ায় ফেসবুকের ভূমিকা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। একটি সম্ভাব্য গণহত্যা সম্পর্কে তদন্ত করার এক পর্যায়ে এমন মন্তব্য পেশ করেন তারা। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি ব্যবহার করে চরমপন্থীরা রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু উপজাতিদের ব্যাপারে জাতীয়বাদীদের বিষিয়ে তুলেছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় জাতিসংঘের বিশেষ মিশনটির চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসমানের মতে, মিয়ানমারে দাঙ্গার পেছনে সামাজিক মাধ্যমের বেশ বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘রুক্ষ ভাষায় মতবিরোধ এবং সংঘাত প্রসারে ফেসবুকের ভূমিকা ছিল স্বতন্ত্র।’

গত বছর, নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক পল ময়ার মিয়ানমার সরকারকে সতর্ক করেছিলেন এ বিষয়ে। তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো, রোহিঙ্গা বিরোধী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করা হচ্ছে।

এছাড়াও চলতি সপ্তাহে শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর দাঙ্গাহামলার আশংকায় ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ও ইন্সটাগ্রাম বন্ধ করে দেয়া হয়। সরকারের একজন মুখপাত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “এসব মাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে কারন এগুলোর সাহায্যে ঘৃণাবাচক বাক্য প্রচার করা হচ্ছিলো।”

টেকক্রাঞ্চডটকম থেকে এ ব্যাপারে ফেসবুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে, প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি। তবে জনৈক ফেসবুক প্রতিনিধির দেয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সহিংসতামূলক উপাদান ও ঘৃণাবাচক বাক্যের কোনো স্থান ফেসবুকে নেই, এবং ফেসবুককে এসব থেকে মুক্ত রাখতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।’ এ ব্যাপারে তারা আঞ্চলিক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে থাকে বলে জানায় তারা। ভবিষ্যতে লোকালয় ও সমাজের সুরক্ষায় তারা এ ব্যাপারে আরো সতর্কতা অবলম্বন করবে বলেও জানানো হয়েছে তাদের বিবৃতিতে।

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি।