• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK

নির্বাচনে ফেসবুক গ্রাহকদের তথ্য হাতিয়েছিল ট্রাম্প শিবির

নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ৫ কোটিরও বেশি ফেইসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও লন্ডন অবজারভার।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার সাবেক কর্মী, সহযোগী ও বিভিন্ন নথির বরাতে পত্রিকা দুটি গত শনিবার এ অভিযোগ তুলেছে। একে ফেসবুকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘তথ্য চুরির’ ঘটনা হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিস্টরা। যুক্তরাজ্যের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দারা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ও ফেইসবুকের কাছ থেকে দ্রুত জবাব প্রত্যাশা করে বলে টুইটারে জানিয়েছেন ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল মোরা হিয়েলে। এ ঘটনার তদন্তে ফৌজদারি বা দেওয়ানি কোনো ধরনের আইন লংঘন ধরা পড়লে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, বলেন তথ্য কমিশনার এলিজাবেথ ডেনহাম।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ তথ্যের গোপনীয়তা নীতি লংঘনের কারণে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে তথ্য বিশ্লেষণকারী এ প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রতিষ্ঠাতা স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন ল্যাবরেটরিজ (এসসিএল) ফেইসবুকে কোনো বিজ্ঞাপন কিনতে ও গ্রাহকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেইজগুলো পরিচালনা করতে পারবে না।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকাকে এ কাজে সহায়তা করেন ক্রিস্টোফার উইলি নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, উত্তর আমেরিকার সক্রিয় ফেইসবুক ব্যবহারকারীর এক তৃতীয়াংশ তথা এই পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইলকে সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোটারের এক চতুর্থাংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছিল।

তিনি বলেন, ফেইসবুক ব্যবহার করে আমরা কোটি কোটি মানুষের প্রোফাইল হাতিয়ে নিয়েছিলাম; যা জানি তার ওপর ভিত্তি করে মডেল নির্মাণ করেছিলাম, এবং ব্যবহারকারীদের ভেতরের চাপা পড়া নেতিবাচক প্রবণতাকে লক্ষ্য বানিয়েছিলাম।

তবে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার এক মুখপাত্র জানান, কোগানের কোম্পানি গ্লোবাল সায়েন্স রিসার্চ (জিএসআর) তাদেরকে সেসব তথ্য দিতে চুক্তিবদ্ধ ছিল, যা ব্যবহারকারীদের অনুমতি সাপেক্ষে নেওয়া এবং যুক্তরাজ্যের তথ্য সংরক্ষণ আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি বলেন, যখন আমরা স্পষ্ট হলাম ফেইসবুকের নিয়ম মেনে জিএসআর ওই তথ্য সংগ্রহ করেনি, সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাছ থেকে পাওয়া সব তথ্য মুছে ফেলা হয়। এছাড়া জিএসআর থেকে নেওয়া কোনো তথ্য দুই বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।