• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৯ মহররম ১৪৪০
BK

চলতি সপ্তাহেই পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে চীনা স্পেস স্টেশন

মহাকাশে থাকা একটি স্টেশন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে তিয়ানগং-১ নামের এই মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে। তবে কোনো সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার নাগাদ পৃথিবীতে পড়তে পারে প্রায় সাড়ে নয় টন্ ওজনের চীনা এই স্পেস স্টেশনটি।

বলা হয়ে থাকে নিজেদের একটি বৈশ্বিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১১ সালে এই স্টেশনটি উৎক্ষেপণ করেছিল চীন। দেশটির মহাকাশ সংস্থা সিএনএসএ এই স্টেশনকে ‘স্বর্গীয় প্রাসাদ’ হিসেবে আখ্যা দেয়। এই স্টেশনে কয়েকটি অভিযানও চালায় চীন। যেসব অভিযানের কয়েকটিতে কিছু নভোচারীও ছিলেন।

২০১৩ সালে চীন এই স্পেস স্টেশনের সকল কার্ক্রম নিষিদ্ধ করে।  আর ২০১৬ সালে সিএনএসএ’র বিজ্ঞানীরা বলেন, তারা এই গবেষণাগারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন আর এটি এখন পৃথিবীর দিকে ধাবিত হওয়া শুরু করবে।

এর কিছু দিন পর বিশেষজ্ঞরা জানান স্টেশনটি অদ্ভূত আচরণ করছে, কয়েক মাসের মধ্যেই এটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে।

এদিকে বিশালাকার এই স্টেশনটি আরো কিছু স্পেস জাঙ্কসহ ধেয়ে আসলেও তাতে আতঙ্কতিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানীরা। তাদের বরাতে বিজনেস ইনসাইডারেরে এক খবরে জানানো হয়েছে,তিয়ানগং-১ সাগরে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এ কারণে কেউ এই দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার শঙ্কা কম।

তারপরও মানুষ আছে এমন কোনো স্থানের কাছাকাছি এসেও দূর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা ফেলে দেওয়া যায় না। প্রকৌশলীরা এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এটি কোথায় পড়বে তা নিয়ে অনুমান প্রকাশ করা কঠিন। নিচে নেমে আসলে এটি বাতাসের ধাক্কায় উড়ে চলে যেতে পারে,এমনকি বাতাসের ছোট একটি ধাক্কা এটিকে এক মহাদেশ থেকে মহাদেশে নিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছে,পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরে এর গতি থাকবে সাড়ে ১৭ হাজার মাইলেরও বেশি। এই স্পেস স্টেশন ও এর টুকরোগুলো বায়ুমন্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এমন তাপ উৎপন্ন করবে যা তার বাইরের আবরণ সম্পূর্ণ ছাই করে দেবে।সেগুলো তখন আকাশে উজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টির মতো দেখা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর অ্যাভান্সড স্পেস অপারেশন স্কুলের শিক্ষক ও অববিট ম্যাকানিক ইঞ্জিনিয়ার জেসি গ্রোসনার জানিয়েছেন, পৃথিবীর ১০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি আসার পরেই এর অধিকাংশ ধ্বংসাবশেষই পুড়ে যাবে। কিন্তু তারপরও অনেক অংশই পৃথিবীতে পড়বে।