• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৬ সফর ১৪৩৯
BK

কাঠগড়ায় পূর্ণিমা

‘ধর্ষণ’। পত্রিকার পাতায় বা টেলিভিশন স্ক্রলে প্রতিনিয়ত এ শব্দটি আমাদের চোখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খুব বেশিই পড়ছে। মনে হতেই পারে, শব্দটির প্রচলন খুব বেড়ে গেছে। হয়ত তাই। সারা দেশ যখন ধর্ষণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তখন এই শব্দটি বেশি চোখে পড়বে-এটাই স্বাভাবিক।

কিছুদিন আগে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এই নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। অনেক জল ঘোলা করে পরে অবশ্য নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে অভিযোগ করেছিলেন সেই অনুষ্ঠানকে আলোচনায় নিয়ে আসার জন্য এই বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

তার রেশ কাটতে না কাটতে এবার ঘোলা জলে আরেকটু কাদা ছিটিয়ে দিয়েছেন হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা ও খলনায়ক মিশা সওদাগর। ‘এবং পূর্ণিমা’ নামে একটি সেলিব্রেটি শোতে উপস্থাপিকার চেয়ারে পূর্ণিমা এবং অতিথির চেয়ারে মিশা সওদাগর। অনুষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী অতিথির ব্যক্তি জীবন ও অভিনয় জীবন নিয়ে নানা আলোচনা করছিলেন উপস্থাপিকা। কিন্তু হঠাৎ পূর্ণিমা ধর্ষণ নিয়ে অদ্ভুত এক প্রশ্ন করে বসলেন মিশাকে?

যারা অনুষ্ঠানটি দেখেছেন তারা রীতিমতো অবাক বনে গিয়েছেন প্রশ্ন ও তার উত্তর শুনে। শুরু হয় বিতর্ক। আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ‘কার সাথে ধর্ষণ দৃশ্যে অভিনয় করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন আপনি?’ পূর্ণিমার এমন প্রশ্নে মিশা সওদাগর বলেন, ‘মৌসুমী ও পূর্ণিমার সাথে।’ সঙ্গে সঙ্গে হা হা হা করে হেসে ওঠেন উপস্থাপিকা।

এমন দৃশ্য দর্শকের একাংশ মেনে নিতে পারেননি। না নিতে পারাটাই স্বাভাবিক। কারণ দেশে ধর্ষণের ঘটনা একের পর এক ঘটে যাচ্ছে। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর মরদেহ মাঠে পড়ে থাকার দৃশ্য এখনো ভাসছে ফেসবুকে। চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের খবরে গরম চা দোকান থেকে অফিসপাড়া। এ অবস্থায় তারকাদের কাছ থেকে এমন প্রশ্ন আর উত্তর আশা করতে পারেননি দর্শক। ‘অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রশ্ন করা হয়েছে’-এমন অভিযোগও উঠেছে এরই মধ্যে।

অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, এই প্রশ্নটি স্ক্রিপ্টে ছিল না। ইচ্ছাকৃতভাবেও করা হয়নি। তাহলে এমন প্রশ্ন কেন করলেন? পূর্ণিমা তার জবাব দিয়েছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘প্রশ্নের পিঠে এমন প্রশ্নটি মূলত মজা করেই করা হয়েছে।’

পূর্ণিমার এ উত্তর মানতে নারাজ সোশ্যাল মিডিয়ার অনেকেই। পূর্ণিমার মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ধর্ষণ কি মজার ব্যাপার পূর্ণিমার কাছে? সম্পাদনা টেবিলে কেন এই অংশটি ফেলা হলো না? এমন নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে সাধারণ দর্শকের মনে।