• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK
১০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১৯০ শিল্প প্রতিষ্ঠান

‘সুন্দরবনের পাশের ২৪ প্রতিষ্ঠান পরিবেশের জন্য হুমকি’

ফাইলফটো

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের চারদিকের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপিত লাল শ্রেণিভুক্ত ২৪টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশের জন্য হুমকি। চিহ্নিত এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাটি, পানি ও বায়ু ব্যাপকভাবে দূষিত হচ্ছে।’ একটি রিট আবেদনের শুনানিতে এমন মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। এরপর লাল শ্রেণিভুক্ত এ ২৪টি প্রতিষ্ঠানসহ ১৯০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ৯ মে আদেশের দিন ধার্য করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন। এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের জমা দেওয়া প্রতিবেদন আমলে নেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে প্রতিবেদন জমা দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি লাল ও বাকিগুলো কমলা ও সবুজ শ্রেণির।

প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্টের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিবেশগত প্রতিপন্ন এলাকায় লাল শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকার সুযোগ নেই। কারণ এগুলো মাটি, পানি ও বায়ু ব্যাপকভাবে দূষিত করে। ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ২৪টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এরপর আদালত এ বিষয়ে আগামী ৯ মে আদেশের দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে, ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সুন্দরবনের আশপাশে নতুন শিল্প কারখানা অনুমোদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সঙ্গে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শিল্প কারখানা স্থাপনের অনুমোদন কেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের লঙ্ঘন হবে না এবং নতুন শিল্প-কারখানা কেন অপসারণ করা হবে না- জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

এ ছাড়া ওই ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বর্তমানে কতগুলো শিল্প-কারখানা রয়েছে, তার তালিকা ছয় মাসের মধ্যে দাখিলে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন আদালত। সেই নির্দেশের আলোকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়।

২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনের আশপাশে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা শিল্প-কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন এবং এর চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। এ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সুন্দরবনের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ভূমি, পানি, বায়ু ও শব্দদূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না। তবে ওই এলাকাতে এরই মধ্যে প্রায় ১৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প করার জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। এর মধ্যে জাহাজভাঙা শিল্পসহ পরিবেশ দূষণকারী প্রকল্প রয়েছে বলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়। এসব শিল্প-কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ ও পরিবেশ আইন ১৯৯৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তা ছাড়া এসব শিল্প-কারখানা সুন্দরবনের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে রিটে দাবি করা হয়।

রিটে পরিবেশ ও বন সচিব, শিল্প সচিব, ভূমি সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি), খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও বরগুনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপারকে (এসপি) বিবাদী করা হয়।