• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১১ মহররম ১৪৪০
BK

সিদ্ধান্ত বদলালেন ফারুক

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার সম্মাননা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিত্রনায়ক ফারুক। বাংলাদেশের খবরের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন খ্যাতিমান এ অভিনেতা। চিত্রনায়িকা ববিতার সঙ্গে যৌথভাবে এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে তাকে।

এর আগে এ ঘোষণা আসার পর দুঃখ প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, ‘ভাগ করে আজীবন সম্মাননা দেওয়াটা ঠিক নয়। এটা যাচ্ছেতাই মনে হয়। আমার দুঃখ লাগে।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের খবরকে ফারুক বলেন, ‘আসলে এই ধরনের সংবাদগুলোতে একটা গ্যাপ থাকে। এই গ্যাপগুলো ঠিক না। আমি একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম, পুরস্কারে হাত দেব না। কিন্তু কেন হাত দেব না? সেটা বলতে হবে?’

ফারুক নিজেই বলেন, ‘উনিশটা ছবিতে আমাকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়নি। তারপর আমি প্রমিজ করেছিলাম, এই অ্যাওয়ার্ডে আমি হাত দেব না। কারণ আর সময়ও নেই। অভিনয়ও করি না।’

আজীবন সম্মাননা একটা অন্যরকম অ্যাওয়ার্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ অ্যাওয়ার্ডের অনেক বড় একটা মূল্য থাকে। এটা যখন যে নেয় তখন তাকে মহারাজা বা মহারানী ভাবা হয়। যেহেতু সরকারের ঘোষণা হয়ে গেছে, গেজেট হয়ে গেছে তাই আমি আর এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য গ্রহণ করব না।’

তাহলে পুরস্কার গ্রহণ করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ‘মিয়াভাই’ খ্যাত এ অভিনেতা বলেন, ‘আমি একটা ক্ষুদ্র মানুষ কিন্তু আমি সম্মান দিতে জানি। একজনকে কিভাবে সম্মান দিতে হয় সেটা আমি জানি। কখন কি করতে হবে সেটাও আমি জানি।’

ফারুক অভিনীত ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে একটা ভুল অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে যোগ করে তিনি বলেন, ‘বিসমিল্লাহতেই গলদ ছিল, আর এখানে তো গলদ থাকতেই পারে। কিন্তু জাতীয় পুরস্কারের সঙ্গে যারা জড়িত তারা অনেকে সম্মানিত। তাদের অপমান করার অধিকার তো আমার নেই। আমি পুরস্কার নেব। নেব না- এই কথা বলব না। কারণ আমি সম্মান দিতে জানি। আমার ইন্ডাস্ট্রিকে সম্মান দিতে জানি। সম্মানকে সম্মান করতে হয়। আমার সরকার আমাকে সম্মান করেছে। আমি তাকেও সম্মান করব। কিন্তু আমার কিছু বলার থাকলে পরে বলব। স্টেজে বলতে পারি অথবা পুরস্কার গ্রহণ করার পরও বলতে পারি।’

২০১৬ সালে চলচ্চিত্র শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চলচ্চিত্রের ২৬টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয় গত ৪ এপ্রিল। এর আগে ২৯ মার্চ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পুরস্কারসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।