• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৬ সফর ১৪৩৯
BK

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে খালেদা জিয়া

* হেঁটে যাওয়া দেখে অসুস্থ বলা যাবে না— হাসপাতাল পরিচালক
বাংলাদেশের খবর

শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। অধ্যাপক এম আলী, ডা. ফয়েজুর রহমান, ডা. এসএম সিদ্দিক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মো. মামুনকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল পরিচালক আবদুল্লাহ আল হারুন খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। গাড়ি থেকে নামার পর তার জন্য হুইলচেয়ার রাখা হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া হুইলচেয়ারে না বসে পায়ে হেঁটে লিফটের দিকে যান। তাকে কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কেবিনে নেওয়া হয়। এ সময় তার পরনে ছিল অফহোয়াইট রঙের জামদানি শাড়ি। তার চারপাশে ছিল পুলিশ, চিকিৎসক, নার্স ও কারারক্ষী। সেখানে তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পাঁচজন সদস্য ছিলেন। 

বিএনপি চেয়ারপারসন চলে যাওয়ার পর হাসপাতালের মিল্টন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, যেভাবে পায়ে হেঁটে খালেদা জিয়া লিফটে উঠেছেন, তাতে তাকে একেবারে অসুস্থ বলা যাবে না। রোববার রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে। এদিকে সকালে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনার পর সেখানে ভিড় করেন দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। তাদের উদ্দেশে হাত নাড়েন খালেদা জিয়া। এক্স-রে করতে নেওয়ার সময় খালেদা জিয়ার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান কেমন আছেন তিনি। জবাবে কিছু না বলে মুচকি হেসে সামনে এগিয়ে যান।

ব্রিগেডিয়ার হারুন বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়া তার পছন্দ অনুযায়ী যেসব চিকিৎসকের উপস্থিতি চেয়েছিলেন তাদের হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। এই চিকিৎসকরা হলেন খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হেরাগ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মামুন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এফএম সিদ্দিকী ও নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুর রহমান। ওনাকে এক্স-রে বিভাগে নেওয়ার সময়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তার সঙ্গে ছিলেন। কেবিনে তার চিকিৎসকদের সঙ্গে উনি কথা বলেছেন।

হারুন বলেন, মোট চারজন চিকিৎসকের উপস্থিতি চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তাদের একজন এ্যাপোলো হাসপাতালের ডা. কেএম আলী হাসপাতাল ফটকে এলেও ঢুকতে পারেননি। যে চারজন চিকিৎসক বিএসএমএমইউতে খালেদাকে দেখেন, তাদের মধ্যে কারাগারের একজন চিকিৎসকও ছিলেন।

৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগার থেকে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে বিএনপি চেয়ারপারসন খা‌লেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। এ সময় ওই গাড়ির সামনে পেছনে কারা কর্তৃপক্ষের দুটি গাড়ি ছাড়াও ছিল র্যাবের পাহারা।

হাসপাতালে তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পাঁচ সদস্য ছিলেন। স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়ার পর তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কেবিন ব্লকের প্যাথলজি বিভাগে তার রক্ত পরীক্ষা করা হবে। কেবিন ব্লকের পাশে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে নিয়ে তার এক্স-রে করানো হয়। রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর রুমে এক্স-রে করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি হাসপাতাল থেকে বের হয়। ১টা ৫০ মিনিটে কারাগার পৌঁছায়।

ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা : খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে আনা-নেওয়ার সময় ওই সব সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচুর সদস্য মোতায়েন করা হয়। খালেদাকে হাসপাতালে আনার খবরে হাসপাতাল ও কারাগার এলাকায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীকে ভিড় করতে দেখা গেছে। তবে পুলিশ হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া বিএনপির কিছু কর্মীকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শাহবাগ থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়া কারাগারের উদ্দেশে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর বিএনপির সমর্থকরা আজিজ মার্কেটের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি কাঁটাবন মোড় হয়ে হাতিরপুলের দিকে গেলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

কোকোর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা : খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং মেয়ে জাফিয়া রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কাউকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার সুযোগ নেই। তারা অপেক্ষা করছেন। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে তাদের দেখা করতে দেওয়া হবে। পরে এক্স-রে করতে নেওয়ার পথে তাদের দেখা হয়।

সরকারের চিকিৎসার প্রয়োজন নেই- মওদুদ : হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকারের চিকিৎসা করানোর কোনো প্রয়োজন নেই। ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে দলীয় প্রধানকে চিকিৎসা করানোর দাবিও জানান তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য দলীয়প্রধানের মুক্তিও দাবি করেন মওদুদ আহমদ।