• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৯ মহররম ১৪৪০
BK

দলের নাম ‘এফ মাইনর’

ছবি : বাংলাদেশের খবর

‘এফ মাইনর’ মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্টের একটা কর্ডের নাম। এ নামেই গানের দলটি। দেশের প্রথম আদিবাসী নারী ব্যান্ড। প্রতিষ্ঠার দেড় বছরের মধ্যে নিজেদের সম্ভাবনার জানান দিচ্ছে ব্যান্ডটি। সাম্প্রতিক এক আড্ডায় এফ মাইনরের সঙ্গে ছিলেন সোহেল অটল 

পাঁচটি মেয়ে মিলে একটি গানের দল। দলটির অন্যতম ভোকাল পিংকি চিরান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন মান্দি সম্প্রদায়ের পিংকি। কথা শুরু করলেন তিনিই।

‘গান বাজনা আমরা ছোট থেকেই করতাম। বিচ্ছিন্ন এই গানের মেয়েগুলোকে এক করেছেন মিউজিক ডিরেক্টর যাদু রিছিল। তিনিই প্রথম আমাদের উৎসাহ দেন একটা ব্যান্ড গড়ার। আমরাও ভেবে দেখলাম- বিষয়টা মন্দ নয়। শুরু করলাম। এটা ছিল ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর।’

শুধু মেয়েরা মিলে একটা ব্যান্ড গড়ে তোলা নিঃসন্দেহে বিরাট উদ্যমের কাজ। সেই উদ্যম তারা পেয়েছেন নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি প্রেম থেকে। যে কারণে ব্যান্ড গড়ার সময়ই নিজেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করে ফেলেছেন। সে কথা জানালেন দলের আরেক ভোকাল ও ইউকুলেলে প্লেয়ার নাদিয়া রিছিল। নাদিয়া বলেন, ‘আমরা চেয়েছি নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরতে। নিজস্ব সংস্কৃতি বলতে আমাদের আদিবাসী সংস্কৃতিই শুধু নয়, বাংলাদেশের ফোক কালচারটাও আমরা তুলে ধরতে চাই।’

মান্দি সম্প্রদায়ের নাদিয়া রিছিল নিউ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেন। তার চিন্তাভাবনা এখন ‘এফ মাইনর’ নিয়ে।

এফ মাইনর নিজেদের সংস্কৃতির পাশাপাশি আরো একটা ব্যাপার তুলে ধরতে চায় গানে গানে। তা হলো- নারীর স্বাধীনতা, নারীর অধিকার।

এ ব্যাপারে মুখ খুললেন ব্যান্ডের আরেক সদস্য, কি-বোর্ডিস্ট একিউ মারমা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোম ইকোনমিকস ইউনিটের ছাত্রী একিউ বলেন, ‘নিজস্ব সংস্কৃতিচর্চার তাগিদ তো আমাদের রয়েছেই, পাশাপাশি নারী অধিকারের ব্যাপারটাও আমরা গুরুত্ব দিতে চাই। সেটা আমাদের গানের ব্যান্ডের মাধ্যমেই। এই ব্যান্ডের সব সদস্য নারী, আমাদের এই ফরম্যাটের মধ্যেই নারীর স্বাধীনতার ব্যাপারটা ফুটে ওঠে। পাশাপাশি নারী অধিকার নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে আমাদের।’

এফ মাইনরের অন্য দুই সদস্য গ্লোরিয়া মান্দা ও দিবা চিছাম। দুজনই মান্দি সম্প্রদায়ের। গ্লোরিয়া দশম শ্রেণির ছাত্রী, দিবা নবম শ্রেণির। দলটির কনিষ্ঠতম এ দুই সদস্য এখনো মনের আনন্দে গান করেন। তবে ছোট বলে তাদের ‘ছোট’ করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন দুজনই। গ্লোরিয়া মান্দা দলের লিড গিটারিস্ট। অন্যদিকে কাহন ও ড্রামসের দায়িত্ব দিবা চিছামের ওপর।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক যাদু রিছিল জানালেন, এফ মাইনর নিয়ে তার স্বপ্ন অনেক বড়। একদিন এই মেয়েগুলো দেশ-বিদেশে নিজেদের সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে বেড়াবে সে স্বপ্ন তিনি দেখেন। যাদু বলেন, ‘দলের সদস্যদের মধ্যে অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। তারা সবাই বয়সে তরুণ। তাদের মধ্যে সঙ্গীতপ্রেম রয়েছে। দেশপ্রেম রয়েছে। এটা যদি বজায় থাকে, তাহলে এই মেয়েরাই আমাদের সঙ্গীতের জন্য একদিন সম্মান বয়ে আনবে।’

যাদু জানান, এফ মাইনরের প্রথম অ্যালবামের কাজ চলছে। মৌলিক গানের এ অ্যালবামটি নিয়ে খুব তাড়াতাড়িই তারা শ্রোতাদের সামনে হাজির হবেন। অ্যালবামে ফোক গানকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।