• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১১ মহররম ১৪৪০
BK

কারাগারে ‘ভূমিকুতুব’

ফাইল ফটো

‘ভূমিকুতুব’খ্যাত ভূমি মন্ত্রণালয়ের পার্সোনাল অফিসার কুতুবুদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম তাকে গ্রেফতার করেন। পরে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

এর আগে কুতুবুদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় তার শ্বশুর নাজমুল ইসলাম সাইদকেও আসামি করা হয়। মামলায় কুতুবুদ্দিনের বিরুদ্ধে গুলশানের ভোলা মৌজার ১০ কাঠা জমি শ্বশুর ও অন্যদের নামে ‘ক্রয়’ দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ জমিটি রাজউকের হুকুম দখলকৃত।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কুতুবুদ্দিন আহমেদ এবং নাজমুল ইসলাম সাইদ পরস্পর যোগসাজশে ১২৮২৪ নম্বর দলিলের ভোলা মৌজার সিএস ৯৮ নম্বর খতিয়ানের সিএস ও এসএ ৪৫৭ নম্বর দাগের ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ (১০ কাঠা) জমি শ্বশুর ও অন্যদের নামে ক্রয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এটি দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে গ্রেফতারের পরপরই তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে তোলা হয়। দুদকের আইনজীবী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পক্ষান্তরে কুতুবুদ্দিনের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন জানান। তবে ঢাকা মহানগর হাকিম একেএম মঈনুদ্দিন সিদ্দিকী জামিন মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, ‘ভূমিকুতুব’খ্যাত কুতুবুদ্দিনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি বিক্রি, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এর আগেও দুদকের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে সংস্থাটিতে একাধিক মামলা তদন্তাধীন থাকলেও উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে তদন্ত স্থগিত করে রেখেছেন। পরে হাইকোর্টের সেকশন থেকে মামলাসংশ্লিষ্ট নথি গায়েব করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রজাতন্ত্রের এ কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও আত্মসাতের বহু অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তাকে বরখাস্ত করা হলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের চাকরিতে বহাল রয়েছেন।