• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK

রাখাইন সফর শেষে জাতিসংঘের কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়নি মিয়ানমার

ফাইলফটো

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও মিয়ানমার এখনো সে প্রস্তুতি নেয়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে এক বিরল সফর শেষে দেশটির পুরান রাজধানী ইয়াঙ্গুনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান সংস্থাটির মানবিক সহায়তা বিষয়ক সহকারী মহাসচিব উর্সুলা মুয়েলার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে ছয় দিনের সফর শেষে মুয়েলার বলেন, ‘আমি সেখানকার (রাখাইন) পরিস্থিতি দেখেছি ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে স্বাস্থ্যগত সুবিধা ও নিরাপত্তা নেই। এখনো বাস্তুচ্যুতকরণ চলছে। (রোহিঙ্গা) ফেরত নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি।’

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করে মিয়ানমার। এরপর তারা বাংলাদেশের দেওয়া তালিকা থেকে মাত্র ৫০০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত নিতে সম্মত হয়। তবে শর্ত দেয়, এই প্রত্যাবর্তন হতে হবে স্বেচ্ছায়। বর্তমান অবস্থায় কোনো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় রাখাইনে যাবে কি না, এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মুয়েলার।

রাখাইন রাজ্যে কোনো সংস্থা বা রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, এমনকি সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমন অবস্থায় মুয়েলারকে বিরল সফরের অনুমতি দেয় সু চি সরকার। এ সফরে তিনি দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি, প্রতিরক্ষা ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রী এবং বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে গত শনিবার সংবাদিকদের জানান। মুয়েলার জানান, তিনি রাখাইনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্বল্প আকারে হলেও দ্রুত ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে রয়টার্সকে মুয়েলার বলেন, ‘আমি তাদের (মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তা) সহিংসতা বন্ধ ও শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। কক্সবাজার থেকে তাদের (রোহিঙ্গা) স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনকভাবে আনতে হবে।’ মিয়ানমার সরকার জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রথমে সাময়িক শিবিরে ও পরে তাদের বাড়িতে যেতে দেওয়া হবে। সত্যিই কি রোহিঙ্গারা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে? এ ব্যাপারে মুয়েলার বলেন, ‘আমি নিজেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রাখাইনে অন্তত ৫৫টি গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমার প্রশাসন। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি পুড়িয়ে ও গুঁড়িয়ে দেওয়া ওইসব এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে নতুন করে বসতি গড়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কোনো চিহ্ন দেখতে পাইনি, এমনকি কেউ এ ধরনের কথা বলেওনি।’

রাখাইনে গত বছরের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নির্মূল অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাটের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের প্রত্যাবাসনে চুক্তি করলেও বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে মিয়ানমার।