• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৯ মহররম ১৪৪০
BK
জিমেইল-ইয়াহু বাদ পড়ছে

চালু হচ্ছে সরকারের নিজস্ব ইমেল

প্রতিকি ছবি

সরকারি কাজের জন্য গুগল মেইল (জিমেইল), ইয়াহু মেইল, আউটলুকসহ অন্যান্য ডোমেইনের ইমেইল সেবা ব্যবহারে ইতি ঘটতে যাচ্ছে। ফলে এখন থেকে সরকারি কর্মকাণ্ডের সব তথ্য আদান-প্রদান হবে সরকারের নিজস্ব ইমেইলে। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাইলেই এখন আর ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করতে পারবেন না।

সরকারের কর্মকাণ্ড দ্রুততর করা এবং সরকারি তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সরকারি ইমেইল পলিসি’ অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন এই ইমেইল পলিসির কারণে সাইবার নিরাপত্তার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমের গোপনীয়তা রক্ষা ও অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, নতুন এই ইমেইল নীতিমালায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও সংস্থার নামসহ ‘ডটবিডি’র ঠিকানাযুক্ত ইমেইল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নিজস্ব ইমেইল ব্যবহারেও বাধ্য করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত সংস্থা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসহ স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই নীতিমালা প্রযোজ্য নয়। তারা নিজেদের কর্তৃপক্ষের নিয়মে ইমেইল ব্যবহার করবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নীতিমালায় প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম এবং পদবি দিয়ে দুটি ভিন্ন ইমেইল আইডি খুলতে পারবেন। তবে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও আইডি দুটি দুই ধরনের কাজে ব্যবহার করতে হবে তাদের। এই ইমেইল আইডি ব্যক্তিগত বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজেই ব্যবহার করতে পারবেন বলেও জানান এই সচিব।

নতুন এই নীতিমালায় প্রাথমিকভাবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় ও গুরুত্বপূর্ণ ২ লাখ কর্মকর্তাদেরকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। তবে যেসব কর্মকর্তা অবসরে যাবেন বা চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হবে, তারা পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত ওই নামের মেইল সরকারি যোগাযোগে ব্যবহার করতে পারবেন। এক বছর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড বাজেয়াপ্ত করবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী এই ইমেইল ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ব্যবহারকারীর অটো সেভ পাসওয়ার্ড ফিচার ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যবহারকারীকে ছয় মাসে অন্তত একবার পাসওয়ার্ড বদলাতে হবে।

এছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের পাসওয়ার্ড অন্য কাউকে জানাতে পারবেন না। মেইলে হিংসাত্মক, আক্রমণাত্মক, ধর্মীয় উসকানিমূলক, পর্নোগ্রাফিবিষয়ক কনটেন্ট এলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

জানা যায়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও সংস্থার জন্য এই ইমেইল সেবা দেবে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।

এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমাদের সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ই-গভর্ন্যান্সের দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এই পলিসির জন্য দুই বছর আগেই প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি নির্দেশনা ছিল। যেখানে বলা হয়েছিল, যেহেতু বিভিন্ন ইমেইলের মাধ্যমে আমাদের সরকারি কাজগুলোর বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করা হয়, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো যাতে আমরা জিমেইল, ইয়াহু কিংবা আউটলুকের মাধ্যমে না করি। কারণ, এই তথ্যগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের নিজস্ব ইমেইল সার্ভার ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নীতিমালা করা হয়েছে। তবে যদি কোনো সাংবিধানিক সংস্থা তাদের নিজস্ব ডোমেইনে ইমেইল হোস্ট করতে চায়, তাহলে সেটা তারা পারবে। তবে তারা কী কী করতে পারবে, আর কী কী করা উচিত হবে না, সেই বিষয়টিও এই নীতিমালায় থাকছে। যেমন তাদের সার্ভার বাংলাদেশে থাকতে হবে, কী কী তথ্য তারা আদান-প্রদান করতে পারবে এগুলোই।

এই ইমেইল সেবার নিরাপত্তা নিয়ে পলক বলেন, যেকোনো সাইবার অ্যাটাক কিন্তু এই ইমেইল গেটওয়ে দিয়েই হয়। তাই এই সেবার লোকাল সার্ভার হোস্ট হবে আমাদের ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে। একই সঙ্গে আমাদের যেহেতু ডিজাস্টার রিকোভারি সেন্টার আছে, তাই এসব তথ্যের ব্যাকআপও রাখা সম্ভব হবে।