• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ২৩ সফর ১৪৩৯
BK

দুই বছরের জন্য উৎসে কর অব্যাহতি চায় বিজিএমইএ

# ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ১৮% # করপোরেট করহার ১২ থেকে ১০% নির্ধারণের দাবি # পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলে ভ্যাট প্রত্যাহার চায়
ছবি : সংগৃহতি

আগামী দুই বছরের জন্য উৎসে কর অব্যাহতি চায় তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ইউরোপের বাজারসহ অন্যান্য বাজারে পণ্যের মূল্য হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, অন্যান্য খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় ১৮ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করছে সংগঠনটি। এ ছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের জোটের (অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স) শর্তানুযায়ী এ শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে।

এ কারণে পোশাক শিল্প বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে অস্তিত্ব ও সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে দুই বছরের জন্য তৈরি পোশাক শিল্পে উৎসে কর শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বিজিএমইএ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এফবিসিসিআইয়ে এ প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে রফতানির বিপরীতে ০.৭০% উৎসে কর ধার্য রয়েছে এবং এ কর কর্তনকে মিনিমাম ট্যাক্স হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে।

বিজিএমইএর দাবি রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনকে মিনিমাম ট্যাক্স হিসেবে বিবেচনা না করে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করতে হবে।

এ ছাড়া বাজেট প্রস্তাবনায় তৈরি পোশাক শিল্পের করপোরেট করহার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ, পোশাক শিল্পে ব্যবহূত প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিলের ওপর প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি, নিয়োগকারীর পক্ষে কর্মীদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়।

উৎসে কর কর্তনকে চূড়ান্ত দায় হিসেবে বিবেচনার দাবি জানিয়ে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, তৈরি পোশাক শিল্প খাতে রফতানির বিপরীতে উৎসে কর কর্তনকে ইতিপূর্বে চূড়ান্ত কর দায় হিসাবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে উৎসে কর কর্তনকে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ৮২ (ঈ) ধারায় ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করার বিধান করা হয়েছে। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্মকর্তা কর্তৃক উৎস করের অতিরিক্ত আয়কর ধরার সুযোগ রয়েছে এবং উদ্যোক্তাদের অযথা হয়রানি করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলবে বলে মনে করে সংগঠনটি।

বর্তমানে রফতানি পণ্য উৎপাদন পর্যায়ে ব্যবহূত গ্যাস, বিদ্যুৎ বিলের ওপর ৮০% ও পানির বিলের ওপর ৬০% হারে মূল্যসংযোজন (ভ্যাট) অব্যাহতি রয়েছে। ওই অব্যাহতি প্রাপ্ত ভ্যাটের অর্থ প্রত্যর্পণ গ্রহণের জন্য কর অব্যাহতি ও প্রত্যর্পণ অফিসে প্রয়োজনীয় দলিলাদি দাখিল করতে হয়, যা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ এবং অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করতে হয়। এসব কারণে প্রদত্ত মূসক প্রত্যর্পণ অর্থ অধিকাংশ রফতানিকারকের পক্ষে উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। এ কারণে রফতানিমুখী পোশাক শিল্পে ব্যবহূত প্রাকৃতিক গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিলের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট হতে সম্পূর্ণ (১০০%) অব্যাহতি চেয়েছে বিজিএমইএ।

অর্থ আইন, ২০১৭-এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ৩০-এ নতুন ধারা সন্নিবেশিত করে নিয়োগ সংশ্লিষ্টতার সূত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলে বাধ্য কোনো বেতনভোগী কর্মী সময়মতো রিটার্ন দাখিল করেছেন কি না, সেটি দেখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। অন্যথায় ওই বেতনভোগী কর্মীর অনুকূলে পরিশোধিত বেতনভাতাদি নিয়োগকর্তার সংশ্লিষ্ট আয় বছরের ব্যবসায় বা পেশা খাতের আয় নিরূপণে অনুমোদনযোগ্য খরচ বলে বিবেচনা করা হবে না।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বলা হয়, একজন নিয়োগকারীর পক্ষে তার প্রত্যেক কর্মকর্তা বা কর্মচারীর আয়কর রিটার্ন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ আয়কর দেওয়া বা আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যার যার একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বিষয়। আবার রফতনামুখী তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রচুর সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োজিত থাকে বিধায় নিয়োগকারীর পক্ষে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা যুক্তিযুক্ত নয়। এরই প্রেক্ষিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে নিয়োগকারীর ওপর যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে তা প্রত্যাহার চেয়েছে বিজিএমইএ।