• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK

ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিবেশীদের দিতে চায় ভারত

ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিবেশীদের দিতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে ব্যবহূত সামরিক সরঞ্জামের তালিকা এবং ন্যূনতম খরচে সেগুলো মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করতে বলা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ভারত চায় ওইসব সরঞ্জাম প্রতিবেশীদের দিয়ে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে। এখন পর্যন্ত দেশটি ব্যবহূত এমআই-২৫ হেলিকপ্টার ও স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি কিছু টহল নৌযান দিয়েছে প্রতিবেশীদের। হেলিকপ্টারগুলো নিয়েছে আফগানিস্তান।

সামরিক সরঞ্জামগুলোর মধ্যে কামান, আর্মার্ড ভেহিকেল, হেলিকপ্টার, টহল নৌযান এবং রাডার সিস্টেম রয়েছে। এসব হয় মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পথে। কৌশলগত দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত তার উৎপাদিত সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বাজার খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আলাপচারিতার সময় বিশেষ করে উচ্চ পর্যায়ের সফরের সময় ভারতের কাছে উপহার হিসেবে ব্যবহূত সামরিক সরঞ্জাম চায়। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ উপহার হিসেবে সামরিক সহায়তা চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের চাওয়া পূরণ করার মাধ্যমে একদিকে যেমন গভীর কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে, অন্যদিকে প্রশিক্ষকদের দল পাঠানো, ভারতে এসে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ও এর জন্য যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার মতো মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার পথও তৈরি হবে। তবে সেনা ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত। কারণ মেয়াদোত্তীর্ণ যেসব সরঞ্জামের কথা বলা হয়েছে সেগুলো কার্যত অর্থের অভাবে অব্যবহূত হয়ে পড়ে ছিল এতদিন।

খবরে বলা হয়, ২০১৫ সালে আফগানিস্তানকে এমআই-২৫ হেলিকপ্টারগুলো দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের কাছে দেওয়ার মতো আর কোনো হেলিকপ্টার নেই। তারা নিজেরা চার দশকের পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ পেচোরা মিসাইল ব্যবহার করছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপপ্রধানের মতে, তাদের ব্যবহূত ৬৮ শতাংশ সরঞ্জামই মেয়াদোত্তীর্ণ এবং সেগুলো বাদ দিয়ে নতুন সরঞ্জাম কেনার জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। বরাদ্দ না থাকায় দশ দিনের যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে যে পরিমাণ গোলাবারুদ থাকা দরকার তা তাদের নেই।