• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

রোগীকে পরীক্ষার নামে ধর্ষণের অভিযোগ

ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা

রোগীকে পরীক্ষার নামে ধর্ষণ এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর হুমকির অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ডা. এএইচ খান বিজয় এমবিবিএস ডাক্তার। তিনি কুষ্টিয়া শহরের সিটি মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন। গত রোববার বিকালে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিরপুর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন এক নারী রোগী। বিচারক এনামুল হক অভিযোগ আমলে নিয়ে এ বিষয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। আদালতে দাখিল করা এজাহারে চিকিৎসকের সঙ্গে ওই নারীর শারীরিক সম্পর্কের চারটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিরপুর উপজেলার একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন ওই নারী। ২০১৭ সালের ৯ মার্চ হার্টের সমস্যায় সিটি মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার দেখাতে যান তিনি। সেখানকার ডাক্তার এএইচ খান বিজয় তার সমস্যার কথা শুনে কয়েক দিনের ওষুধ লিখে প্রেসক্রিপশন দেন এবং তিন দিন পর আবার আসতে বলেন। ১৫ মার্চ তিনি আবার চেম্বারে গেলে চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলেন। পরীক্ষার কথা বলে তাকে শহরের একটি বাড়িতে নিয়ে যান চিকিৎসকের পরিচিত এক ব্যক্তি। প্রায় এক ঘণ্টা পর ডাক্তার বিজয় ওই বাড়িতে এসে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে কাজী ডেকে এনে তাকে বিয়ে করেন বিজয়। এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক ছিল তাদের। তবে মেলামেশার অনেকগুলো ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখেন বিজয়। পরে তিনি বিয়ের কাগজ চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ সময় বিজয় বিয়ের নামে অভিনয়ের কথা বলেন।

ওই নারী দাবি করেন, এভাবে সম্পর্ক না রাখলে ওইসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন বিজয়। একপর্যায়ে তিনি কৌশলে বিজয়ের মোবাইল থেকে মেমোরি কার্ড বের করে পালিয়ে আসেন এবং কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার পর থেকে বিজয় তাকে মোবাইল ফোনে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।