• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK

ইসলামের চার খলিফার কবর

ছবি: ইন্টারনেট

হজরত আবু বকর (রা.)

আবু বকর ছিলেন মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রধান সাহাবি, ইসলামের প্রথম খলিফা। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি রসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর শ্বশুর ছিলেন। রসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যুর পর তিনি খলিফা হন এবং মুসলিমদের নেতৃত্ব দেন। মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অগাধ বিশ্বাসের জন্য তাকে ‘সিদ্দিক’ বা বিশ্বস্ত উপাধি প্রদান করা হয়। তাই তাকে আবু বকর সিদ্দিক নামেও সম্বোধন করা হয়। হিজ্জাতুল বিদার (বিদায় হজ) পরে, যখন মহানবী (সা.) গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন তিনি হজরত আবু বকরকে (রা.) নামাজে ইমামতি করার নির্দেশ দেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর হজরত আবু বকর (রা.) প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন।

নবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর অনেক গোত্র ইসলাম ত্যাগ করে। মক্কা, মদিনা, ওমানের আবদুল কাইস গোত্র আর তায়েফের সাকিফ গোত্র ছাড়া বেশিরভাগ জায়গাতেই এ ইসলাম ত্যাগের প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ জাকাত দেওয়া থেকে বন্ধ করে দেয়। মুসলিম বিশ্বের ঐক্য রক্ষার জন্য এই ইসলাম ত্যাগ দমন করতে আবু বকর (রা.) যুদ্ধ করেন এবং তিনি তা কঠোরভাবে দমন করেন। বেশিরভাগ গোত্রই পরাজিত হয় এবং ইসলামী বিশ্বে ফিরে আসে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অভাবনীয় সাফল্য দেখে আরবের অনেকেই নিজেদের নবী বলে দাবি করতে থাকে। তারা আবু বকর (রা.)-এর কাছ থেকে ক্ষমতার ভাগাভাগি চেয়ে বসে। যেমন- বনু হানিফার মুসাইলিমা বিন হাবিব নামে একজন হাতের জাদুতে পারদর্শী ছিলেন; তার দাবি ছিল তিনিও নবী। আল ইয়ামামা নামক স্থানে আবু বকরের খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) নেতৃত্বে মুসাইলিমার যুদ্ধ হয় এবং এ যুদ্ধে মুসাইলিমা নিহত হন। কিন্তু মুসলিমদের পক্ষে মারা যান ৮০০ জন কুরআনে হাফেজ।

এত হাফেজ মারা যাওয়ায় কুরআনের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তখন আবু বকর (রা.) হজরত যায়দ ইবনে সাবিত (রা)-এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন। কারণ যায়দ (রা.) হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রধান ওহি লেখক ছিলেন। তারা একটি কপিতে কুরআন লিপিবদ্ধ করেন।

অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ মিটে যাওয়ার পর আবু বকর (রা.) ইসলামী বিশ্ব সম্প্রসারিত করার দিকে মনোযোগ দেন। তিনি ইরাক দিয়ে শুরু করেন, কারণ সেটি ছিল সাসানীয় সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ধনী অঞ্চল। ৬৩৩ সালে তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-এর অধীনে বাহিনী প্রেরণ করেন ইরাকে। এমনকি তিনি প্রবল পরাক্রমশালী রোম সাম্রাজ্যের সিরিয়া প্রদেশে চারটি বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। তবে এই মিশনগুলো তিনি কেবল শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তী শাসকদের আমলে সেগুলো বেশি ফলপ্রসূ হয়েছিল এবং ইসলামী বিশ্ব আরো সম্প্রসারিত হয়েছিল।

৬৩৪ সালের ২৩ আগস্ট হজরত আবু বকর (রা.) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বার্ধক্যজনিত এ রোগ থেকে আর সুস্থ হয়ে ওঠেননি। প্রচণ্ড জ্বরে তিনি বিছানায় পড়ে থাকতেন, বুঝতে পারতেন তার সময় শেষ হয়ে এসেছে। তিনি তখন হজরত আলী (রা.)-কে ডেকে পাঠান এবং অনুরোধ করেন যেন তিনি তার জানাজার আগে গোসল করিয়ে দেন।

৬৩৪ সালের ২৩ আগস্ট আবু বকর (রা.) ইন্তেকাল করেন। তার জানাজার নামাজ পড়ান হজরত উমর (রা.)। তিনি চেয়েছিলেন তার কবর যেন নবী (সা.)-এর পাশেই হয় এবং মুসলিমরা তাকে সেখানেই সমাহিত করেন। মদিনার মসজিদে নববিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কবরের ঠিক পাশেই এখনো হজরত আবু বকর (রা.)-এর কবর দেখতে পাওয়া যায়।

 

হজরত ওমর (রা.)

হজরত ওমর (রা.) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর মৃত্যুর পর খেলাফতের প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সময় খেলাফতের সীমানা অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। তার শাসনামলেই জেরুজালেম মুসলিমদের হস্তগত হয়।

সমরবিদ্যা, অশ্বারোহণ এবং কুস্তিতে পারদর্শী ওমর (রা.) প্রথমাবস্থায় ইসলামের বিরোধী ছিলেন। কিন্তু এক ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি ৩৯ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ওমর (রা.) একবার মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-কে হত্যার উদ্দেশে বের হয়ে পথিমধ্যে খবর পান তার বোন ও ভগ্নিপতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বোনের বাড়ি যান এবং সেখানে তাদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করতে শোনেন। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে একসময় তাদের ওপর হাত তোলেন। একসময় বোনের অনুরোধে সুরা তাহার আয়াত পাঠ করেন এবং তার মন তখন ইসলামের দিকে ধাবিত হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে মুহম্মদ (সা.)-এর কাছে গিয়ে ক্ষমা চান এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ওমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে সে সময় ইসলামের প্রচার বেগবান হয়। মূলত এর পর থেকেই প্রকাশ্যে কাবার সামনে নামাজ আদায় করাতে মুসলিমরা বাধার সম্মুখীন হয়নি। ইসলাম গ্রহণের পর গোপনীয়তা পরিহার করে প্রকাশ্যে তিনি মুসলিমদের নিয়ে কাবা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেদিন মুহম্মদ (সা.) তাকে ফারুক উপাধি দেন। ইসলাম প্রতিষ্ঠায় তিনি বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও বিজয় অর্জন করেন। তাবুকের যুদ্ধে সাহায্য হিসেবে তিনি তার সম্পদের অর্ধেক দান করে দিয়েছিলেন।

৬৪৪ সালে ওমর একজন পার্সি‌য়ানের হাতে নিহত হন। আবু লুলু বলে পরিচিত এক পার্সি‌য়ান দাস ওমর (রা.)-কাছে তার মনিব মুগিরার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে। তার অভিযোগ ছিল যে তার মনিব মুগিরা তার ওপর বেশি কর ধার্য করেছে। ওমর এরপর মুগিরার কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। মুগিরার উত্তর সন্তোষজনক হওয়ায় ওমর পিরুজের ওপর ধার্য করা কর ন্যায্য বলে রায় দেন। হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ফজরের নামাজের আগে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে। এখানে নামাজের ইমামতি করার সময় ওমরকে সে আক্রমণ করে। তাকে ছয়বার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোক তাকে ঘিরে ফেলে। এ সময় আরো কয়েকজনকে আঘাত করে যাদের কয়েকজন পরে মারা যায়। এরপর পিরুজ নিজ অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আঘাতের কারণে তিনদিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তার ইচ্ছানুযায়ী আয়েশার অনুমতিক্রমে তাকে মসজিদে নববীতে মুহম্মদ (সা.) ও আবু বকরের পাশে দাফন করা হয়। আজো ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নববীতে তার কবর জিয়ারতে যান।

 

হজরত উসমান (রা.)

হযরত উসমান (রা.) ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা। ৬৪৪  থেকে ৬৫৬ পর্যন্ত খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। উসমান কুরাইশ বংশের অন্যতম বিখ্যাত কোষ্ঠীবিদ্যা বিশারদ ছিলেন। তিনি অন্যান্য অভিজাত কুরাইশদের মতো ব্যবসা শুরু করেন এবং সাফল্য লাভ করেন। মক্কার সমাজে একজন ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন তিনি। তাকে গণি উপাধি দেওয়া হয়েছিল যার অর্থ ধনী।

মক্কার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ধনী গোত্র উমাইয়াদের মধ্যে তার জন্ম। বাবার বিশাল সম্পত্তির উত্তরাধিকার তিনি পেয়েছিলেন। মক্কা বিজয়ের কিছু আগ পর্যন্ত এই উমাইয়ারা রসুল (সা.)-এর চরম বিরোধী ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে উসমান (রা) তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবু বকর (রা)-এর পরামর্শে প্রথম দিকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। মক্কার ধনী ব্যবসায়ী উসমান (রা.) তার সম্পদের বিশাল অংশ ইসলামের জন্য দিয়ে দেন।

উসমান (রা.) ক্ষমতা নেওয়ার পর জনগণের ভাতা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে দেন আগের তুলনায়। যেসব জায়গা বিজিত হবে, সেখানে জমি কেনাবেচা নিষিদ্ধ করেছিলেন ওমর (রা.)। এ নিষেধাজ্ঞা উসমান (রা.) তুলে নেন এবং ব্যবসার সুযোগ বাড়িয়ে দেন। তার আমলে অসাধারণ রকমের ভালো ছিল ইসলামী বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জনগণও সমৃদ্ধিতে ছিল।

উসমান (রা.)-এর শাসনামলে মুয়াবিয়া বিশাল এক মুসলিম নৌবাহিনী গড়ে তোলেন এবং সেই বাহিনীতে মুসলিম ছাড়াও মিসরীয় ও সিরীয় খ্রিস্টানরা যোগদান করেন। এই নৌবাহিনী ৬৫৫ সালে দুর্দান্ত রোমান বাইজান্টিন নৌবাহিনীকে ভূমধ্যসাগরে পরাস্ত করে। এতে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। মোটামুটি প্রথম ছয় বছর তার শাসনের ব্যাপারে কারো অভিযোগ ছিল না। ৬৫৪ সালের দিকে উসমান (রা.)-এর শাসনের বিরোধিতা গড়ে ওঠে।

মিসরের রাজনীতির কারণেই মূলত উসমানি খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নাড়াচাড়া দিয়ে উঠছিল। উসমান (রা.) তখন মিসরের গভর্নর আবদুল্লাহ ইবনে সাদকে মদিনাতে ডেকে পাঠালেন। ওদিকে যেই না ইবনে সা’দ মিসর ত্যাগ করলেন, সঙ্গে সঙ্গে মুহম্মাদ ইবনে আবু হুজাইফা এক মিলিটারি ক্যু করে মিসরের ক্ষমতা দখল করে ফেললেন। এই মুহম্মদ ইবনে আবু হুজাইফা তার বাবাকে হারিয়েছিলেন ইয়ামামার যুদ্ধে, এরপর উসমান (রা.) তাকে বড় করে তোলেন। কিন্তু কেন তিনি তাকে কোনো প্রদেশের গভর্নর করলেন না, সেই রাগ থেকে তিনি বিদ্রোহ করে বসলেন উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে। তিনি গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। ৫৬৫ সালের ১৭ জুন তিনি কোরআন তেলাওয়াতরত অবস্থায় কিনানা ইবনে বিশর নামক এক  বিদ্রোহীর হাতে শাহাদাত বরণ করেন। সেই সময়ের উত্তপ্ত  রাজনৈতিক  পরিস্থিতির  কারণে তিনদিন উসমান (রা.)-এর লাশ পড়ে ছিল বাসায়। পরে কয়েকজন সমার্থক তাকে দাফনের ব্যবস্থা করেন।  কিন্তু  মদিনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে পৌঁছানোর পর দেখা গেল বিদ্রোহীরা টের পেয়ে সেখানে হাজির। তারা মুসলিম কবরস্থানে উসমান (রা.)-কে দাফন করতে দেবে না। নিরুপায় হয়ে তাকে ইহুদিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তী সময়ে উমাইয়া খলিফারা এই দুই কবরস্থানের প্রাচীর ভেঙে দুই কবরস্থান এক করে ফেলেন যেন উসমান (রা.) মুসলিম কবরস্থানে শায়িত হতে পারেন।

হযরত আলী (রা.)

হযরত আলী ইবনে আবু তালিব ইসলামের চতুর্থ ও খুলাফায়ে রাশেদিনের শেষ খলিফা। তিনি ছিলেন আবু তালিব ও  ফাতিমা বিনতে আসাদের পুত্র। শিশু বয়স থেকেই তিনি নবী মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে লালিত-পালিত হন। ইসলামের ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম পুরুষ যিনি নবীর ডাকে সাড়া দিয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ আদায় করতেন। তিনি ছিলেন একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। যার বীরত্বগাথা ইসলামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। তিনি তার বীরত্বের জন্য নানা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। বদর যুদ্ধে বিশেষ বীরত্বের জন্য মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছ থেকে তিনি ‘জুলফিকার’ নামক তরবারি উপহার পান। খাইবারের সুরক্ষিত কামুস দুর্গ জয় করলে মহানবী তাকে ‘আসাদুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর সিংহ’ উপাধি দেন।

হযরত উমর (রা.) ও হযরত উসমান (রা.)-এর পর তিনিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ইসলামের তৎকালীন চরমপন্থি ‘খারেজি’ গ্রুপের সদস্য ইবনে মুলজাম নাহরাওয়ান যুদ্ধে সঙ্গীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ এবং সে সময়ে তাদের শোচনীয় অবস্থা নিরসনের জন্য হযরত আলীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন এবং এ উদ্দেশ্যে ইবনে মুলজাম কুফার পথে রওনা হন। ৪০ হিজরীর ১৯ রমজান (৬৬১ খ্রিস্টাব্দ) ইবনে মুলজাম বিষাক্ত বিষ মাখা তলোয়ার দিয়ে হযরত আলী (রা.)-এর মাথায় আঘাত করেন এবং এই আঘাতের কারণেই ঘটনার দু’দিন পর ৬২ বা ৬৩ বছর বয়সে হযরত আলী (রা.) শাহাদাতবরণ করেন।

পরে ওই উগ্রপন্থিদের ভয়ে গোপনেই দাফন করা হয় আলী (রা.)-কে। খারেজিরা বলতেন, আলী (রা.) মুসলমানই নন। তাই ভয় ছিল, তারা কবর থেকে তার মৃতদেহ বের করে অমর্যাদা করতে পারে। এ কারণে প্রায় একশ’ বছর নবী পরিবারের ইমামেরা ব্যতীত কেউই জানতেন না আলী (রা.)-কে কোথায় দাফন করা হয়েছে।

২১ রমজান ভোরে কাউকে নকল লাশ সাজিয়ে কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল মদিনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। যাতে লোকজন মনে করে আলী (রা.)-কে মদিনায় দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুধু ইমাম আলী (রা.)-এর সন্তানেরা ও কিছু সংখ্যক অনুসারী যারা তার দাফনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা জানতেন তাকে কোথায় দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে কুফার নিকটে নাজাফে যে স্থানে আলী (রা.)-এর সমাধি রয়েছে সেখানে তারা গোপনে জিয়ারতে আসতেন। পরবর্তীতে খারেজিরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে তৎকালীন ইমাম সাদিক (আ.) সাফওয়ান (রহ.)-কে সে স্থান চিহ্নিত করে গাছ লাগিয়ে দিতে বলেন। এরপর থেকে সবাই জানতে পারেন ইমাম আলীর মাজার সেখানে। তবে আলী (রা.)-এর মাজার নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।