• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK

‘স্কুল-কলেজ পর্যায়ে প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ চালু করবে লেটস লার্ন কোডিং’

দেশের তরুণদের প্রোগ্রামিং শেখাতে বেশ কয়েক বছর ধরেই কাজ করছে লেটস লার্ন কোডিং (এলএলসি)। প্রোগ্রামিংয়ের পাশাপাশি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইউআই, ইউএক্স নিয়েও প্রশিক্ষণ দেয় এলএলসি। ঢাকার বাইরের আগ্রহী তরুণদের কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছে একটি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুমন মোল্লা সেলিম তুলে ধরেছেন এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন

বাংলাদেশের খবর : লেটস লার্ন কোডিংয়ের শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?

মোহাম্মদ সুমন মোল্লা সেলিম : লেটস লার্ন কোডিং নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম মূলত আজ থেকে চার বছর আগে। আমি তখন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে স্নাতকের ছাত্র ছিলাম। শুরু থেকেই কোডিং নিয়ে আমার আগ্রহ ছিল প্রবল। কারণ যেকোনো ধরনের সমস্যার সমাধান করা যায় এর সাহায্যে। আমার কোডিং শেখা শুরু হয় অনলাইনের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে নিজে নিজেই। তখন আমি অনুভব করতাম যে কোডিং বা প্রোগ্রামিং ভালোভাবে শেখার জন্য সামনাসামনি কারো থেকে সাহায্য পাওয়া গেলে ব্যাপারটা আরো সহজ হতো, শুধু আমার জন্য নয়, সবার জন্যই। তাই বিনা খরচে সবার কাছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ও কোডিং শেখার সুযোগ পৌঁছে দিতে সহযোগী দুই বন্ধু আনাম আহমেদ এবং ফিরোজ আহমেদকে নিয়ে শুরু করি ‘লেটস লার্ন কোডিং’ বা ‘চলো আমরা কোডিং শিখি’।

প্রথম তিন বছর আমরা কমিউনিটি সংগঠন হিসেবে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। তারপর ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে আমরা রেজিস্টার্ড কোম্পানি হিসেবে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এরপর আমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রানা এবং তাফহিমুর রহমান। আমরা তিনজনই এখন লেটস লার্ন কোডিংয়ের মূল উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের খবর : প্রতিষ্ঠানটি চালুর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

মোহাম্মদ সুমন মোল্লা সেলিম : বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দরকারি একটি দক্ষতা হচ্ছে কোডিং বা প্রোগ্রামিং। প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সব ধরনের মানুষের কাছে প্রোগ্রামিংয়ের ধারণা পৌঁছে দেওয়া, তাদেরকে প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ হতে সব ধরনের সাহায্য- সহযোগিতা এবং সহায়তা প্রদান করা।

বাংলাদেশের খবর : কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এলএলসি থেকে?

মোহাম্মদ সুমন মোল্লা সেলিম : এলএলসি থেকে আমরা বর্তমানে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন, আইসিটি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। এগুলো ছাড়াও চাকরির জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে আমাদের রয়েছে সফট স্কিলস এবং লিডারশিপ প্রশিক্ষণ।

বাংলাদেশের খবর : এখন পর্যন্ত কতজনকে এখান থেকে প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে?

মোহাম্মদ সুমন মোল্লা সেলিম : এলএলসি থেকে চার বছরে আমরা পঞ্চাশের বেশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আয়োজন করেছি, যার মাধ্যমে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে আমরা প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ দিতে পেরেছি। আমরা ২৫ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে সাত মাসের ওয়েব ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণও দিয়েছি।

বাংলাদেশের খবর : বর্তমানে আপনারা কী নিয়ে কাজ করছেন?

মোহাম্মদ সুমন মোল্লা সেলিম : আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। তাই ঢাকার বাইরে যারা আছেন, তাদের কথা মাথায় রেখে আমরা একটি অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি (www.letslearncoding.co), যার মাধ্যমে সারা দেশের তরুণ-তরুণীদের কোডিং ও প্রোগ্রামিংয়ের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে সহজেই অংশ নিতে পারবে।

বাংলাদেশের খবর : কী ধরনের স্বীকৃতি মিলেছে এসব কার্যক্রমের জন্য?

মোহাম্মদ সুমন মোল্লা সেলিম : আমাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে আমরা ইউকেএইডের বিওয়াইএলসি ইয়ুথ লিডারশিপ প্রাইজ পেয়েছি। একই বছরের অক্টোবরে আমরা এসবিওয়াইএস সোশ্যাল বিজনেস চ্যাম্প কম্পিটিশনে বাংলাদেশের একমাত্র দল হিসেবে জয়ী হই।

বাংলাদেশের খবর : লেটস লার্নিং কোডিং নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মোহাম্মদ সুমন মোল্লা সেলিম : আমরা আমাদের কার্যক্রম স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই এবং আমাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের সব জায়গায় কোডিং বা প্রোগ্রামিং শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে চাই।