• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১২ মহররম ১৪৪০
BK

মানবদেহে প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব নিয়ে সবচেয়ে বড় গবেষণা

সংরক্ষিত ছবি

সাধারণ যেকোনো জিনিস খোলা পরিবেশে রেখে দিলেই কিছুদিনের মধ্যে এর পচন ধরে। আর এই কাজটি করে কিছু অণুজীব। বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সব ধরনের পদার্থকেই ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করতে পারে অণুজীব। তবে প্লাস্টিকের মতো কিছু পদার্থকে ভাঙা অণুজীবের সাধ্যের বাইরে। আর এ কারণেই প্রকৃতিতে জমা হওয়া প্লাস্টিক বছরের পর অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায়। তবে তাপ, চাপসহ অন্যান্য পরিবেশগত কারণে বড় আকারের প্লাস্টিক ক্রমান্বয়ে পরিণত হচ্ছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণিকায়। বিজ্ঞানীরা এসব অতিকায় ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার নাম দিয়েছেন মাইক্রোপ্লাস্টিক।

পাঁচ মিলিমিটার কিংবা তারও ছোট এই প্লাস্টিক-কণা প্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। তবে খালি চোখে এত ছোট প্লাস্টিক-কণিকা চোখে পড়ে না। প্ল্যাঙ্কটন সাইজের এই প্লাস্টিক-কণাকে অনেক জলজ প্রাণী খাদ্য মনে করে ভুল করছে।

শুধু জলজ প্রাণী নয় বরং মানুষের পানযোগ্য পানিতেও পাওয়া যাচ্ছে এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক। আর এ কারণেই সাধারণ প্লাস্টিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ক্ষতিকর মনে করা হয় এই মাইক্রোপ্লাস্টিককে।

বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও এখন এর ক্ষতির পরিমাণ বা মাত্রা নিয়ে নেই কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা। মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য ঠিক কতটুকু হুমকি হিসেবে আছে তারও নেই সঠিক কোনো পূর্বাভাস।

তবে প্লাস্টিক দূষণের জন্য দায়ী দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ইন্দোনেশিয়া সম্প্রতি মানদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিরূপণ করতে নতুন একটি গবেষণা শুরু করেছে। প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার পর এই সংক্রান্ত নতুন এই গবেষণা শুরু করার ঘোষণা দিল দেশটি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণার আওতায় ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীরা সামুদ্রিক মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির পরিমাণ খতিয়ে দেখবেন ও সেগুলো খায় এমন ২০০০ মানুষকে পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি মানবস্বাস্থ্যে কোনো কিছুর প্রভাব যাচাই করে দেখার সবচেয়ে বড় গবেষণা।

দেশটির জাভা দ্বীপের শিল্পাঞ্চল খ্যাত সেমেরাং এলাকায় পরিচালিত হবে গবেষণাটি। কারণ প্রায় ১৭ লাখ মানুষের আবাস শহরটিতে। আর তাদের বেশিরভাগেরই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে সামুদ্রিক মাছ।

গবেষণাটির প্রধান গবেষক ও সোয়েগিযাপ্রানাটা ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ইন্নেকে হানতরো বলেন, আমরা আসলে খতিয়ে দেখতে চাই সামুদ্রিক খাবারে ঠিক কী পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে, খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে তার কতটুকু প্রবেশ করছে আর কতটুকু গ্রহণ করলে তা মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে সেই বিষয়গুলো।

গবেষণার প্রথম ধাপে স্থানীয় সমুদ্র ও অন্যান্য এলাকার জলাশয়ের মাছের ৪৫০টি নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোর মধ্যে প্লাস্টিক-কণার অস্তিত্ব তুলনা করে দেখা হবে। ইতোমধ্যে গবেষকরা প্রায় সবকটি নমুনাতেই প্লাস্টিক-কণার অস্তিত্ব পেয়েছেন। তারা নমুনা হিসেবে যেসব তেলাপিয়া মাছ সংগ্রহ করেন সেগুলোর মধ্যে ৮৫ শতাংশ মাছেই প্লাস্টিক-কণার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া নমুনার ৫০ শতাংশের বেশি চিংড়ি, মিল্ক ফিশ ও মুলেটে মাছেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিক-কণা।

গবেষণার দ্বিতীয় ধাপে সামুদ্রিক মাছ খায় এমন ২০০০ মানুষকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এজন্য তারা মাসখানেক সময় নেবেন বলে জানাচ্ছে বিবিসি। আর তারপরই জানা যাবে আসলে এই প্লাস্টিক-কণাগুলো মানব শরীরের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর।