• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন বাংলাদেশের

সংরক্ষিত ছবি

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠতে যে শর্ত দরকার, তা পূরণ করায় আবেদন করার যোগ্য হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এ বছর মার্চ মাসেই বাংলাদেশ এ স্বীকৃতি পেল। এর মধ্য দিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উত্তরণ ঘটবে।

১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি সামাজিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সূচক তৈরি করে থাকে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। তারই ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ- তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সিডিপি। বাংলাদেশসহ ৪৮টি দেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় আছে। প্রতি তিন বছর পর জাতিসংঘের সিডিপি এ তালিকায় থাকা দেশগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। অর্থনীতির সার্বিক গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সিডিপি বাংলাদেশকে এ স্বীকৃতি দিয়েছে।

মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ২৫ ডলারের নিচে থাকলে সে দেশ এলডিসিভুক্ত হয়। এই আয় ১ হাজার ২৩০ ডলার অতিক্রম করলে ধাপ উন্নয়নের যোগ্যতা অর্জন হয়। বাংলাদেশের এখন ১ হাজার ২৭৪ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৭২। এক্ষেত্রে ৬২ পর্যন্ত দেশগুলো এলডিসিভুক্ত, ৬৪ ছাড়ালে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়। অর্থনৈতিক ঝুঁকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ২৫ দশমিক ২। এই পয়েন্ট ৩৬-এর বেশি হলে এলডিসিভুক্ত হয়, ৩২-এ আনার পর উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন হয়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নিশ্চিত আশাবাদী, এভাবে চললে ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে কোনো সমস্যা হবে না।

উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি যেকোনো দেশের জন্য আত্মমর্যাদার ও গৌরবের। বস্তুগত লাভের চেয়ে তা অনেক বেশি সম্মানের। বাংলাদেশ একসময় ছিল তলাবিহীন ঝুড়ি, দক্ষিণ এশিয়ার অত্যন্ত দরিদ্র একটি দেশ। সেখান থেকে আত্মনির্ভরশীল একটি দেশ হয়ে উঠছে, বিশ্বের বুকের নিজস্ব পরিচয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে এটা অনেক অনেক আনন্দের একটা ব্যাপার। সবার সহযোগিতাতেই এ সম্মান অর্জন সম্ভব।