• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ২৩ সফর ১৪৩৯
BK

ইতিহাসের পথে বার্সা

লা লিগায় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড দখলে নেয়। এবারের মৌসুমের শিরোপাও ঘরে তোলে। এল ক্লাসিকোতেও হারেনি। আর বুধবার রাতে ভিয়ারিয়ালকে উড়িয়ে দেয় ৫-১ গোলে। তাতে এক বিরল রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে বার্সেলোনা। আর মাত্র দুটি ম্যাচে হার এড়াতে পারলে লা লিগার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে পুরো মৌসুম অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়বেন লিওনেল মেসিরা।

অপর এক ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ২-৩ গোলে সেভিয়ার কাছে হেরে লা লিগায় দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনা থেকে প্রায় ছিটকে গেল। ঘটনাবহুল এ ম্যাচে অধিনায়ক রামোস পেনাল্টি মিস করেন, একটি আত্মঘাতী গোল করেন ও হলুদ কার্ড পান। আপাতত বার্সার ৯০ পয়েন্টের বিপরীতে আটলেটিকোর পয়েন্ট ৭৫ আর রিয়ালের ৭২।

লা লিগায় গত বছরের ৮ এপ্রিল মালাগার মাঠে সর্বশেষ হারের মুখ দেখে বার্সেলোনা। পরের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে জয় পায় ৩-২ গোলে। তারপর লিগের কোনো ম্যাচে হারেনি। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে রিয়াল সোসিয়েদাদ টানা ৩৮ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। বার্সেলোনা এবার সেটি ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ে। গত ম্যাচে জয়ের ফলে টানা ৪৩ ম্যাচ অপরাজিত তারা। এর মধ্যে এবারের মৌসুমে ৩৬টি ম্যাচ খেলে। তাতে ২৭টি জয়ের সঙ্গে ড্র করে ৯টি ম্যাচে।

ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের ‘গার্ড অব অনার’ দেয় ভিয়ারিয়াল। তবে মাঠে সফরকারীদেরকে কোনো অনুকম্পা দেখায়নি বার্সা। পয়েন্ট টেবিলে ষষ্ঠ স্থানে থাকা ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে খেলার ১১ মিনিটে লিড নেয় বার্সেলোনা। এই গোলের পেছনের কারিগর ওসমান ডেম্বেলে। একাই বল টেনে নিয়ে ডি-বক্সের কাছ থেকে শট নেন। সেটি গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন। দৌড়ে গিয়ে ছয় গজ দূর থেকে সেই বল জালে জড়িয়ে দেন কুতিনহো।

দুই মিনিট পর ফোরনালের দুর্দান্ত শট ফিরিয়ে দিয়ে বার্সাকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক জাসপার সিলেসেন। তবে খেলার ১৬ মিনিটে নিজেদের লিডকে ডাবলে নিয়ে যান পাউলিনহো। ইনিয়েস্তার কাছ থেকে বল পান ডিগনে। গোলরক্ষক তার দিকে এগিয়ে গেলে বলটি পাউলিনহোর দিকে এগিয়ে দেন। ছয় গজ দূর থেকে ব্রাজিলীয় তারকা গোল করেন।

প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে ডি-বক্সের মধ্য থেকে ইনিয়েস্তাকে বল দেন মেসি। কিংবদন্তি মিডফিল্ডার সেটি গোলপোস্টের সামনে তুলে দেন। ভলি দিয়ে বলটি জালে পাঠান আর্জেন্টাইন তারকা।

বিরতির পর খেলার ৫৪ মিনিটে অপ্রত্যাশিত একটি গোল হজম করে বার্সেলোনা। ফোরনালসের জোরালো শট স্যানসোনের গায়ে লেগে গতি পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়।

খেলার ৮৭ মিনিটে ইভান রাকিটিচের পাস থেকে গোল ব্যবধান বৃদ্ধি করেন ডেম্বেলে। শেষ বাঁশি বাজার আগে ইনজুরি টাইমে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। তাতে বার্সেলোনা ৫-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।