• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK

এবার পুরান ঢাকায় খাবার পানিতে কেঁচো

এবার পুরান ঢাকায় খাবার পানিতে কেঁচো
প্রতীকী ছবি

পানির অপর নাম জীবন; যা পানে সারে অনেক রোগ-বালাই। অবশ্য তা হতে হবে বিশুদ্ধ। নইলে এই পানিই হতে পারে অনেক রোগ-বালাই ও জীবন বিপন্নের কারণ। তবে এ বিষয়টি হয়তো ভুলতেই বসেছে ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ওয়াসা)। পুরান ঢাকার বনগ্রাম, যোগীনগর, নবাবপুর, তাহেরবাগ জুরিয়াটুলি, ঠাটারিবাজার, কাপ্তান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় তাদের সরবরাহ করা খাবার পানিতে ছোট ছোট কেঁচোর বাচ্চা পাওয়া যাচ্ছে।

রাজধানীতে ওয়াসার খাবার পানিতে কেঁচো পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০০৯ সালে মাদারটেকে ও ২০১২ সালে ফার্মগেটের রাজাবাজার এলাকায় ওয়াসার পানিতে কেঁচোর বাচ্চা ও পোকা পাওয়া যায়। এবার তা পাওয়া যাচ্ছে পুরান ঢাকায়। এসব নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ঢাকা ওয়াসা।

পানের অনুপযোগী ওয়াসার এই পানি গোসল বা থালা-বাসন ধোয়ার কাজেও লাগানো যাচ্ছে না। গোসলের সময়ও শরীরে চলে আসছে কেঁচোর বাচ্চা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের এমন পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে কোনো সুফল মেলেনি। তবে ঢাকা ওয়াসার দাবি, তারা কোনো অভিযোগই পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এর আগেও তাদের এই ধরনের কথা শুধু আশ্বাস পর্যন্তই থেকে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে লোক দেখানো একটি টিম পাঠায় ওয়াসা। উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বাড়ির মূল ট্যাঙ্কে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বিদায় হয় তারা।

এদিকে খাবার পানিতে কেঁচোর বিষয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বার বার অভিযোগ করা হয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি বলেন, তিনি একাধিকবার ওয়াসার কাছে অভিযোগ জানালেও তারা কোনো ভ্রূক্ষেপ করেনি। অন্যদিকে ওয়াসার জোন-১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এ বিষয়ে ওয়ার্ডের কাছ থেকে তারা কোনো অভিযোগ পাননি। কেন খাবার পানিতে কেঁচো পাওয়া যাচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পানি সরবরাহের পাইপগুলো অত্যন্ত পুরনো হওয়ার কারণে ভেতরে ফেটে যাওয়া অসম্ভব নয়। তাছাড়া স্যুয়ারেজের পাইপ ও পানির পাইপ ফেটে একাকার হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য যারা নতুন পাইপ নিয়েছেন, পুরনো পাইপটিও তারা রেখে দেন। সেক্ষেত্রে পুরনো পাইপটিতে মাটি বা আবর্জনা ঢুকে পড়া অসম্ভব নয়।’

কাউন্সিলর মান্নাফি বলেন, ওয়াসা বার বার তাদের লোকবল সঙ্কটের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। কিন্তু ওয়াসার প্রকৌশলী বলেন, তাদের লোকবল সঙ্কট নেই। তিনি আরো বলেন, নদীর পানির নাব্য কম থাকলে অনেক সময় সায়েদাবাদ ওয়াটার প্রজেক্টের পানিতে কেঁচো দেখা যায়।