• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ২৪ সফর ১৪৩৯
BK
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

নতুন কোম্পানি আইন হতে হবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব

নতুন কোম্পানি আইন হতে হবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব
ছবি : বাংলাদেশের খবর

নতুন কোম্পানি আইন যেন ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হয় সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিসিসিআই আয়োজিত ‘কোম্পানি আইন : বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সংস্কার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ আহ্বান জানান। ডিসিসিআই মিলনায়তনে আয়োজিত বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, ব্যবসায় ব্যয় সূচকে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে। একটি কোম্পানি গঠনে প্রচুর পরিমাণ ডকুমেন্ট জমা দিতে হয় যার অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয় উল্লেখ করে তারা বলেন, ব্যবসা যাতে সহজেই করা যায় সেজন্য অপ্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো বাদ দিতে হবে। ব্যবসায় ব্যয় কমাতে অনলাইনের মাধ্যমে যাতে কোম্পানির অডিট রিপোর্টসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট জমা দেওয়া যায় এজন্য নতুন কোম্পানি আইনে সে বিষয়টি জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তারা।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বোস। ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খানের সঞ্চালনায় বিষয়বস্তুর ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই পরিচালক নূহের এল খান। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইএফসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. এম মনসুর রিয়াজ, আইসিএবির সাবেক সভাপতি আদিব এইচ খান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী নাসের ইজাজ বিজয় ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ব্যবসায় ব্যয় সূচকে আমাদের স্কোর খুবই কম। এটা নিয়ে আমরা লজ্জার মধ্যে পড়ে যাই। আমাদের এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সূচকে দেশগুলোর তালিকা তৈরি হচ্ছে। তাতে আমরা বরাবরই নিচের দিকে থাকছি। ২০-৪০ বছর আগে এসবের কোনো কিছুই ছিল না। এখন আমরা যখন এগিয়ে চলছি তখন এসব নানা বেড়াজাল তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বোস বলেন, নতুন কোম্পানি আইনের জন্য আমরা স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে প্রচুর মতামত পেয়েছি। সবার মতামত নিয়ে ব্যবসাবান্ধব নতুন কোম্পানি আইন খুব শিগগিরই চূড়ান্ত করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো মোকাবেলায় রফতানি আয় বৃদ্ধি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং বাংলাদেশ তা করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত তিন বছরে আমরা অর্থনৈতিকভাবে চমৎকার সাফল্য দেখিয়েছি। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি এবং প্রবৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অর্থনৈতিক দেশ। তবে আমাদের রফতানি আয়ের ৯৩ শতাংশই আসছে ৬টি পণ্যের ওপর নির্ভর করে। এটি অর্থনীতির জন্য ভালো নয় উল্লেখ করে বলেন, আমাদের রফতানি পণ্য বাড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে রফতানি বাজারও সম্প্রসারণ করতে হবে।

আইএফসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. এম মনসুর রিয়াজ বলেন, বিশ্বে ব্যবসায় নতুন নতুন ধারণা আসছে। বিভিন্ন দেশে সিঙ্গেল মেম্বারশিপ কোম্পানি গঠিত হচ্ছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রেও আসছে নতুন নতুন পণ্য। নতুন কোম্পানি আইনে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এটি হতে হবে আধুনিক যাতে ব্যবসায়ীরা এতে সুবিধা পান। কোম্পানি আইনে আরো অনেকের স্বার্থ থাকলেও এটা ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের উপযোগী হওয়া উচিত।

আইসিএবির সাবেক সভাপতি আদিব এইচ খান বলেন, রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজকে (আরজেএসসি) আরো শক্তিশালী করতে হবে। অনলাইন নিবন্ধনের কারণে কোম্পানির নিবন্ধনে আগের তুলনায় সময় অনেক কম লাগছে, কিন্তু এ সময় আরো কমানো দরকার। কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম মনিটরিংয়ে আরজেএসসিকে আরো শক্তিশালী করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম বলেন, কোম্পানি আইনে মামলা পরিচালনার জন্য মাত্র একটি বেঞ্চ রয়েছে, মামলা নিষ্পত্তির জন্য এটা যথেষ্ট নয়। এজন্য একটি বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত। বিরোধ নিষ্পত্তি আইন থাকলেও সেটা খুব একটা কার্যকর নয়। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটা বডি থাকতে পারে। কোম্পানি অধিগ্রহণ, একীভূতকরণের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট আইন ও নীতিমালা নেই। এ কারণে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, প্রবদ্ধির ধারা ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগবান্ধব যে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন, আইন ও নীতি সংস্কারে যেন তারই প্রতিফলন ঘটে।

মুক্ত আলোচনায় আইডিএলসির প্রধান নির্বাহী আরিফ খান বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্যই হওয়া উচিত ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়ানো। আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ ২ বিলিয়ন ডলারের মতো। এটি বাড়ানো না গেলে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের মধ্যে আটকে থাকবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে করপোরেট গভর্নেন্স খুবই দুর্বল, রিলেটেড পার্টি ট্রানজেকশনের সংজ্ঞা ঠিক নেই, স্বতন্ত্র পরিচালক সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা করছেন না। সবকিছুতেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, আরজেএসসি মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে।

ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, আমাদের দেশে অনেক বিদেশি ট্রেডিং ব্যবসা করছে। তাদেরকে ট্রেডিং ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া উচিত হবে না। বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে বিদেশিদের সম্পৃক্ত থাকতে হবে।