• মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০
BK

‘ডিজিটাল ব্যাংক বাংলাদেশ’ করতে আবেদন

‘ডিজিটাল ব্যাংক বাংলাদেশ’ করতে আবেদন
সংরক্ষিত ছবি

বেসরকারি খাতে নতুন আরো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক স্থাপনের আবেদন এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। এই ব্যাংকের প্রস্তাবিত নাম ডিজিটাল ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এর উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে কে এম হাসানের। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার অধিবাসী বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে আবদুর রহমানের। জানা গেছে, তিনি জনতা ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাসিন্দা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির আবেদনটি ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে পাঠিয়েছেন যাচাই-বাছাই করতে। গত ১৪ মে ব্যাংকটির উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদনটি পাঠায়।

যোগাযোগ করা হলে কে এম হাসান বলেন, ‘আমি টুঙ্গিপাড়ার মানুষ। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। সে পথে অনেকটা এগিয়ে এসেছি। তারই সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ডিজিটাল ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমাদের ব্যাংকটি হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিপূরক।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী এ প্রতিবেদককে জানান, ব্যাংকটির আবেদন যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

জানা গেছে, এরই মধ্যে এই নামে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে ব্যাংকটির নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। আর প্রস্তাবিত ব্যাংকের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে দেখানো হয়েছে মতিঝিলের খান ম্যানশন নামে একটি ভবন। তবে কে এম হাসান বলেন, খান ম্যানশনে এক হাজার বর্গফুট ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সরেজমিন সেখানে কে এম হাসান ও আবদুর রহমানকে পাওয়া গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে আরো তিনটি ব্যাংক অনুমোদনের কাজ চলছে। ২০১২ সালে নতুন করে ৯টি ব্যাংক চালুর অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে সীমান্ত ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ব্যাংক মিলিয়ে মোট ব্যাংকের সংখ্যা ৫৭টি। এর মধ্যে ৯টি বিদেশি, ৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত। আর বাকিগুলো দেশীয় মালিকানার ব্যাংক।

এর বাইরে বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রথম সহসভাপতি জসিম উদ্দিন একটি ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তার ব্যাংকের প্রস্তাবিত নাম ‘বাংলা ব্যাংক।’

এ ছাড়া সন্দীপের বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এম এ কাশেম ‘পিপলস ব্যাংকের’ অনুমোদনের জন্য লবিং করছেন।

‘পুলিশ ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংকের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট।

এই তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকারের অভিপ্রায় জানিয়ে গভর্নরকে চিঠি দিয়েছেন। প্রথম দফায় বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা নেই জানিয়ে সরকারকে অভিমত দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।