• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১০ মহররম ১৪৪০
BK

পরমাণু চুক্তি রক্ষায় ইউরোপকে সময় বেঁধে দিল ইরান

পরমাণু চুক্তি রক্ষায় ইউরোপকে সময় বেঁধে দিল ইরান
এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তা রক্ষায় বিকল্প উপস্থাপন করতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইরান। রয়টার্স এ খবর দিয়েছে।

২০১৫ সালে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় পরাশক্তির স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বিপরীতে ইরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়। এই মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এ অবস্থায় চুক্তিতে থাকা ইউরোপীয় দেশগুলো তা রক্ষায় চেষ্টা করে যাচ্ছে। চুক্তি বহাল রেখে ইরানকে আর্থিক সুবিধা দিতে চায় দেশগুলো। তবে অনেক ইউরোপীয় কোম্পানি আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ব্যাপ্তি অনেক বেশি হওয়ায় তাদের বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

চুক্তির পক্ষে থাকা দেশ ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি ও রাশিয়া শুক্রবার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠক শুরুর আগে ইরানের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, সত্যিকার অর্থে আমরা খুব আশাবাদী নই। ইরানি কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা আশা করছি মে মাসের শেষ দিকে প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক প্যাকেজ দেওয়া হবে। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, এখনো কোনো ‘প্ল্যান বি’ নেই। এই কর্মকর্তা জানান, ইউরোপীয় পদক্ষেপে এটা নিশ্চিত করতে হবে তেল রফতানিকারকরা যেন তাদের কর্মকাণ্ড স্থগিত না করে এবং সুইফটের মাধ্যমে যেন ইরান লেনদেন করে যেতে পারে।

শুক্রবারের বৈঠক শেষে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনা চলবে’। বৈঠকের আগে তিনি বলেছিলেন, পরমাণু সমঝোতায় থাকব নাকি বেরিয়ে যাব সে বিষয়ে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। একটি সদস্য দেশ এটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সমঝোতার বাকি সদস্য দেশগুলো ইরানের ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে দেয় বিষয়টি তার ওপর নির্ভর করছে। ইরানের শীর্ষ পরমাণু আলোচক আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পর ইউরোপ কীভাবে ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার গ্যারান্টি দেয় সেটাই এখন তেহরানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানি উড়োজাহাজ কোম্পানির ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা : ইরানভিত্তিক উড়োজাহাজ কোম্পানি দেনা এয়ারওয়েজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়। প্রসঙ্গত, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এই এয়ারওয়েজের বিমানে যাতায়াত করেন। আলজাজিরার খবরে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ব্যবহূত উড়োজাহাজ কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রুহানি সাধারণত এই উড়োজাহাজেই যাতায়াত করেন। এ ছাড়া সরকারের সব ধরনের সরকারি ফ্লাইটও এই কোম্পানি দেখভাল করে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার-২০০১ অনুযায়ী দেনা এয়ারওয়েজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে ইরানভিত্তিক আরেক উড়োজাহাজ কোম্পানি মেরাজ এয়ার। তখন এই কোম্পানি তাদের সব ‘ভিআইপি ফ্লাইট’ দেনা এয়ারওয়েজের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকে ইরান সরকারের সংশ্লিষ্ট সব ফ্লাইট দেখভাল করছিল দেনা এয়ারওয়েজ।