• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৭ সফর ১৪৩৯
BK

তামাকের রাজস্ব আয়ের চেয়ে চিকিৎসায় ব্যয় দ্বিগুণ

তামাকের রাজস্ব আয়ের চেয়ে চিকিৎসায় ব্যয় দ্বিগুণ
সংরক্ষিত ছবি

regular_2394_news_1527699827

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দের বড় অংশ খরচ হচ্ছে তামাক সেবনজনিত রোগের চিকিৎসায়। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রতি বছর ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই তামাক সেবনজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। ফলে পরিকল্পনামতো বরাদ্দ খরচ সম্ভব হচ্ছে না।

তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে চিকিৎসা খরচ বহু গুণ বেড়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে খরচের এ অংক বিশাল বোঝা হয়ে উঠছে। বছরে তামাক খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তামাকে অসুস্থদের চিকিৎসায় রাজস্বপ্রাপ্তির দ্বিগুণ টাকা খরচ হয় স্বাস্থ্য খাতে।

এরপরও রোগীদের অকাল মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই সরকারি সেবা পাচ্ছে না। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। দিনে দিনে বাড়ছে তামাকজনিত রোগে মৃত্যুর সংখ্যাও। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ধূমপান ৮ শতাংশ কমলেও ইয়াবা আসক্তি বেড়েছে। দেশে ৬০ থেকে ৭০ লাখ ইয়াবায় আসক্ত। প্রতি বছর দেড় লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য সেবনে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেই। তবে আমরা পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেব।

বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, তামাক ও মাদক সেবনে নারীর সংখ্যা বাড়ছে ভয়ানক হারে। নারীদের তামাক ব্যবহারের সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে ইয়াবা। বেশি ব্যবহূত মাদক এখন ইয়াবা। সহজলভ্য হওয়ায় তামাকে আসক্তরা ইয়াবার দিকে ঝুঁকছে।

মাদকাসক্ত নারীদের সংসারও ভেঙে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন মতে, দেশের শতকরা ৪৩ ভাগ মানুষ তামাকে আসক্ত। তাদের মধ্যে শতকরা ২৯ জন নারী। প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে অন্তত তিনজন কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে মাদকবিরোধী সংগঠন মানসের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়।

যোগাযোগ করলে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান জানান, ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ মানুষ ধূমপান করেন। ২০১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী তা ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ৮ শতাংশ কমে আসার তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনো প্রকাশ করেনি বলে জানা যায়।

এ পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার পালন হবে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস। অন্যান্য দেশের মতো এ দেশেও দিবসটি পালনে থাকছে বিভিন্ন আয়োজন। ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেলা সাড়ে ১১টায় দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচির আয়োজন করছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপ মতে, সবচেয়ে কম দামে সিগারেট পাওয়া যায়, এমন তিনটি দেশের একটি বাংলাদেশ। তামাকজনিত মোট ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলে তা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশ। দেশের শতকরা ৪৩ ভাগ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ মানুষ সিগারেট, বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাক বা অন্যান্য তামাক পণ্যে অভ্যস্ত। যার মধ্যে ২৩ ভাগ (২ কোটি ১৯ লাখ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন আর ২৭ দশমিক ২ ভাগ (২ কোটি ৫৯ লাখ) ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অন্য প্রতিবেদন মতে, হূদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশের জন্য দায়ী তামাক ব্যবহার ও পরোক্ষ ধূমপান। হূদরোগের কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপের পরেই তামাক ব্যবহারের অবস্থান। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত ‘হেলথ বুলেটিন ২০১৭’-এর তথ্য মতে, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সময়কালে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। ‘হেলথ বুলেটিন ২০১৪’-এর তথ্য মতে, সরকারি হাসপাতালে মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে সংখ্যায় বেশি হূদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। বিষয়গুলো বিবেচনায় এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘তামাক ও হূদরোগ’।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দ্য ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে অকাল মৃত্যুর কারণের তালিকায় হূদরোগ সপ্তম স্থান থেকে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। এ পরিবর্তনের হার ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ। এ মৃত্যুর জন্য দায়ী হিসেবে তামাকের অবস্থান চতুর্থ।