• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK
যুবরাজ সালমানের আরেক চমক

যৌন নিপীড়নবিরোধী আইন হচ্ছে সৌদিতে

যৌন নিপীড়নবিরোধী আইন হচ্ছে সৌদিতে
সংরক্ষিত ছবি

ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার পর থেকেই একের পর এক চমক দেখিয়েই চলেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সিংহাসনের উত্তরাধিকারী নিযুক্ত হওয়ার পর দেশটিতে যেন সংস্কারের হাওয়া লেগেছে। রক্ষণশীল সমাজের দেশটিতে নারীরা নানা ক্ষেত্রে অনেক কিছুতেই প্রথমবারের মতো অধিকার পাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। খবর বিবিসি, মিডল ইস্ট আই ও আরব নিউজ।

যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন ওই আইন প্রণীত হতে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার দেশটির মন্ত্রিসভায় (শূরা কাউন্সিল) খসড়া আইনটি অনুমোদন পায়। এতে  যৌন নিপীড়নের সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। দেশটির বাদশা এ নিয়ে ডিক্রি জারি করলে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। যুবরাজ সালমানের চলমান কথিত সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে দেশটিতে বিপুল নারী অধিকারকর্মী আটকের ঘটনা চলমান থাকায় যুবরাজের সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে দেশটিতে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারীদের কোনো আইনি পদক্ষেপের সুযোগ ছিল না। শূরা কাউন্সিলের সদস্য লতিফা আল সালানকে উদ্ধৃত করে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের ইতিহাসে খসড়া বিলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর মাধ্যমে একটি বড় আইনি শূন্যতা পূরণ হলো। যৌন হয়রানি রোধে এটা একটা বড় উদ্যোগ।

২০৩০ সাল নাগাদ তেল নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী অর্থনীতি করতে দেশটিতে পরিচালিত হচ্ছে সংস্কার উদ্যোগ। যুবরাজ সালমান সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছর নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৪ জুন থেকে এটা কার্যকর হবে। নারীদের স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কয়েক দশক নিষিদ্ধ থাকার পর সম্প্রতি সিনেমার উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কনসার্টে নারী-পুরুষের একসঙ্গে অংশগ্রহণের বিষয়টিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতাও খর্ব করেছেন যুবরাজ সালমান। 

কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সৌদি সরকার উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও এখনো বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশটিতে এখনো নারীদের পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা প্রচলিত। আইন অনুযায়ী নারীদের পড়াশোনা, ভ্রমণ বা অন্য কোনো কাজের জন্য এখনো বাবা, স্বামী বা ভাইয়ের অনুমতির দরকার পড়ে। অ্যাকটিভিস্টদের দাবি নারী অধিকারের লড়াইয়ের জন্য এই অভিভাবকত্ব একটি বড় ইস্যু। তবে অচিরেই এই প্রতিবন্ধকতা কেটে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর মধ্যেই এক রাজকন্যার নেতৃত্বে ফ্যাশন জগতেও পা রাখল সৌদি নারীরা। ৩০ বছর বয়সী এই সৌদি রাজকন্যা নওরা বিনতে ফয়সাল আল সৌদ গত ডিসেম্বরে আরব ফ্যাশন কাউন্সিলের অনারারি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। এরপর গত মাসে প্রথমবারের মতো আরব ফ্যাশন উইক আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজনে বেশ সফল হয়েছে।

এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে নারীদেরও ফতোয়া জারির অধিকার এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ও ফ্যাশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ারও অনুমতি মিলেছে। যুবরাজ সালমান নারীদের আরো স্বাধীনতা দিতে কাজ করার আভাস দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, অদূর ভবিষ্যতে সৌদি নারীদের আর মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে চলতে হবে না। যদিও দেশটির রক্ষণশীলরা তার এসব কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছেন। কিন্তু কোনো কিছুতে দমবার পাত্র নন সালমান। সকল বিরোধিতা উপেক্ষা করে তিনি তার সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে চলছেন।