• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

রমজানের রোজা আমাদের ওপর কেন ফরজ

রমজানের রোজা আমাদের ওপর কেন ফরজ
প্রতীকী ছবি

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম একটি হলো রোজা। রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে সুরা জারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, মানুষ ও জিন জাতিকে আমারই ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। সুতরাং প্রত্যেক মানুষের উচিত মহান স্রষ্টার ইবাদতে মনোযোগী হওয়া এবং জেনে-বুঝে ইবাদত পালন করা। যেকোনো আমল-ইবাদত পালনের আগে জানা উচিত- এই আমলটি কেন পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং আমলটি পালনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বা সার্থকতা কী এবং এই আমল-ইবাদতের ফজিলত বা প্রতিদান কেমন? এতে করে আমল-ইবাদত পালনে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং তৃপ্তি আসে। রমজানের রোজা কেন ফরজ করা হয়েছে, তা জানাও প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। রোজা ফরজ হওয়ার কারণ জানা থাকলে রোজা পালনে মনোযোগ বাড়বে এবং যথাযথ তৃপ্তির সঙ্গে রোজা পালনের মাধ্যমে পরকালীন সফলতা অর্জনের নিশ্চয়তা লাভ করা সম্ভব হবে। ইসলামী স্কলারদের গবেষণায় মোট চারটি কারণে সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হয়েছে। আর তা হলো— তাকওয়া প্রতিষ্ঠা বা মোত্তাকি হওয়া : রোজা ফরজ হওয়া বা করার অন্যতম কারণ হলো, মোত্তাকি হওয়া বা তাকওয়া প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামের যতগুলো আমল-ইবাদত রয়েছে, তার মধ্যে রোজা বা সিয়াম পালনের মাঝেই আল্লাহভীতির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। এই মর্মে আল্লাহ ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করা হলো যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মোত্তাকি হতে পার (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)।

সংযমী হয়ে আত্মার পরিশুদ্ধতা লাভের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা : রোজা হলো ধৈর্য ও সহনশীলতা বাড়ানোর অন্যতম মাধ্যম। রোজা পালন করে ধৈর্য ও সহনশীলতার গুণ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষ সংযমী হয় এবং আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা সম্ভব। আর আত্মশুদ্ধির সাধনায় নিয়োজিত হওয়া বা থাকা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। এ মর্মে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করল, সে সফলকাম আর যে আত্মাকে কলুষিত করল, সে ব্যর্থ হলো (সুরা শামস : ৯-১০)।

আল্লাহভীতি ও প্রীতিকে দৃঢ় করা : মুমিন-মুসলমানের মধ্যে আল্লাহর ভীতি ও প্রীতি বিরাজমান। রমজানের রোজা এই ভীতি ও প্রীতিকে বৃদ্ধি বা দৃঢ় করার সহায়ক আমল। কারণ রোজা এমন একটি ইবাদত— লোকচক্ষুর অন্তরালে যা ভাঙা বা রোজা না রেখে রাখার অভিনয় করা সম্ভব। তবু কোনো মুমিন-মুসলমান রোজা না রেখে কখনো জাহির করে না যে আমি রোজাদার। আবার কোনো মুমিন-মুসলমান রোজা রেখে কখনো লোকচক্ষুর অন্তরালে পানাহারে লিপ্ত হয় না। এর চেয়ে বড় আল্লাহভীতি ও প্রীতির প্রমাণ আর কী হতে পারে।

আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ও অনুগ্রহ অনুধাবনের অনুভূতি তৈরি করা : রোজা পালনের উদ্দেশ্যে সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। এর মাধ্যমে একাধারে দুটি বিষয়ের অনুভূতি অর্জন করা সম্ভব। এক. গরিব-অসহায় মানুষের না খেয়ে থাকার বিষয়টি অনুধাবন বা অনুভব করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। দুই. আল্লাহ মহানের প্রদত্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহ অনুধাবনের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টি একমাত্র রোজা পালনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।