• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

ভ্রমণকে রোজা না রাখার কৌশল বানানো থেকে বিরত থাকুন

ভ্রমণকে রোজা না রাখার কৌশল বানানো থেকে বিরত থাকুন
প্রতীকী ছবি

জীবনযাপনের তাগিদেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে চলতে হয়। হোক তা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে। পবিত্র রমজান মাসেও থেমে থাকে না জীবনযাপন প্রক্রিয়ার এই গতি। কাজের তাগিদে ছুটে যেতে হয় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। কখনো কখনো এক দেশ থেকে অন্য দেশে। পর্যটককে ইসলামী শরিয়তের ভাষায় মুসাফির বলা হয়। সফরকালীন রোজা রাখা বা না রাখা নিয়ে আমাদের মধ্যে বেশ বিভ্রান্তি ও সংশয় রয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এই মাসের সাক্ষাৎ লাভ করবে, তার জন্য সম্পূর্ণ মাস রোজা রাখা অপরিহার্য। আর যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত বা ভ্রমণে থাকবে, সে যেন অন্য সময় রোজার সংখ্যা পূর্ণ করে (সুরা বাকারা, আয়াত-১৮৫)। পবিত্র কোরআনের আলোচ্য আয়াতে কিছু শ্রেণির মানুষের ওপর রোজা রাখার বাধ্যবাধকতাকে কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। তার মধ্যে মুসাফির বা পর্যটক অন্যতম।

রসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। তিনি সফরে থাকাকালে কখনো রোজা রেখেছেন, আবার কখনো রাখেননি। সাহাবা আজমাইনরা অনেক সময় রসুল (সা.)-এর সঙ্গে বিভিন্ন সফরে যেতেন। রমজান মাসের সফরে সাহাবিদের কেউ কেউ রোজা রাখতেন, আবার কেউ কেউ রাখতেন না। এ ব্যাপারে রসুল (সা.) কাউকে কিছু বলতেন না।

কোরআন-হাদিসের আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট বোঝা যায়, সফরকালে রোজা রাখার বিষয়টি ইচ্ছা ও পছন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ হলো— সফরকারীর কষ্ট লাঘব করা। এই ছেড়ে দেওয়া মানে একেবারে ছেড়ে দেওয়া নয়। রমজান মাসে সফর বা অন্য কোনো কারণে যে কয়টি রোজা রাখা সম্ভব হবে না, রমজানের পর অন্য যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে তা কাজা করতে হবে। আর যদি সফরকারী ব্যক্তি মনে করে, সফরকালে রোজা রাখলেও তার কোনো অসুবিধা হবে না, তাহলে সে রোজা রাখতে পারবে এবং এটাই হবে তার জন্য অতি উত্তম। তবে একটি কথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে— ভ্রমণকে যেন কোনোভাবেই রোজা না রাখার কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা না হয়। ভ্রমণে থাকলে রোজা রাখতে হবে না এই ভেবে কৌশল করে ভ্রমণে বা সফরে বের হওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক।

এ ছাড়া এক দেশে রোজা রাখা শুরু করে মধ্যবর্তী সময়ে অন্য কোনো দেশে চলে যাওয়ার প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে সফরকারী ব্যক্তি ওই দেশের সংখ্যা ও নিয়ম মেনে বাকি রোজা পালন করবে এবং ওই দেশের সময় ও জনসাধারণের সঙ্গে ঈদ পালন করবে। স্থান পাল্টানোর কারণে মাঝখান থেকে যে কয়টি রোজা তার কম হবে, সেগুলোকে রমজান মাসের পর কোনো সুবিধাজনক সময়ে কাজা আদায় করে নেবে (ফাতওয়ায়ে শামী- ৩/৩১; ফাতওয়ায়ে রহমানিয়া-৫/১৮০-৮১)।