• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ৮ মহররম ১৪৪০
BK

পুরুষের মানসিক চাপ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে মানবজাতিকে!

পুরুষের মানসিক চাপ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে মানবজাতিকে!
ইন্টারনেট

গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে গবেষকরা মানবজাতির জন্য ভয়ানক এক অশনির বার্তা শুনিয়েছিলেন। তারা হুশিয়ার করে ছিলেন, সারা বিশ্বে পুরুষদের শরীরে যে হারে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমছে তাতে করে সেই হার বজায় থাকলে মানুষের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

১৯৭৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের পুরুষদের ওপর করা প্রায় ২০০ গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেন যে আলোচ্য সময়ের মধ্যে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা। কিন্তু শুক্রাণুর হার কেন কমছে তার সঠিক কারণ তখনকার গবেষকরা জানাননি।

সাধারণত ধারণা করা হয় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকে ফলানো ফসল বা ফল খাওয়া কিংবা প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার খাওয়ার সময় রাসায়নিকের সংস্পর্শ শুক্রাণুর জন্য হুমকি হতে পারে। এছাড়া ধূমপান, স্থূলতা বা খাদ্যাভ্যাসের কারণেও কমতে পারে পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান।

তবে সম্প্রতি ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সম্প্রতি শুক্রাণু কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ সম্পর্কে জানিয়েছেন। তারা দেখেছেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক দৈন্য বা পারিবারিক সংঘাত বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে পুরুষরা টানা দুই মাসের বেশি মানসিক চাপে থাকলে আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে তাদের শুক্রাণুর মান।

গবেষকরা ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সের ১০ হাজার ৫৩৬ জন পুরুষের শুক্রাণুর নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে সেগুলো ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের যুদ্ধকালীন সময়ে নমুনা নেওয়া ৬৫৯ জন পুরুষের শুক্রাণুর নমুনার সঙ্গে তুলনা করেন।

তাতে তারা দেখেন, যুদ্ধকালীন সময়ে নমুনা নেওয়া ৬৫৯ জন পুরুষের মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ পুরুষের শুক্রাণু চলন ক্ষমতা প্রায় নেই বললেই চলে। আর শান্তিপূর্ণ সময়ে সংগৃহীত নমুনাতে ৪৭ শতাংশ শুক্রাণুর চলন ক্ষমতা খুবই অল্প।

গবেষক দলের প্রধান ড. ইলিয়াহু লেভিটাস বলেন, মানবিক চাপ ও দুশ্চিন্তার তীব্র প্রভাব রয়েছে মানুষের প্রজনন ক্রিয়ায়। কিন্তু সেটা নিয়ে এখন পর্যন্ত খুব কম গবেষণা হয়েছে। আমাদের গবেষণায় আমরা দেখেছি মানসিক চাপ থাকলে পুরুষের শুক্রাণুগুলো তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে যায়।

লেভিটাস বলেন, এই গবেষণা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যুদ্ধকালীন সময়ে বা অন্য যেকোনো সময়ে পুরুষদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারলে হয়তো শুক্রাণুর সংখ্যা নাও কমতে পারে।

এছাড়া ২০১৪ সালে আমেরিকান সোসাইটি ফর রি-প্রোডাক্টিভ মেডিসিনও জানায়, মানসিক চাপে থাকলে পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান উভয়ই কমতে পারে। তবে সেই গবেষণার ধরনটি ছিল একটু ভিন্ন। তখন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কেবলমাত্র বন্ধ্যা দম্পতিদের ওপরই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। তখন তারা দেখেন বন্ধ্যা দম্পতিদের মধ্যে ৪০ শতাংশ পুরুষের শুক্রাণু দুর্বল। তখন তারা সেই গবেষণাটি আরো খতিয়ে দেখে জানান, ইরেকশন ক্ষমতাসহ মানসিক চাপেও পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে।

আর ২০১৭ সালের মাঝামাঝি মানবজাতির বিলুপ্তির বিষয়ে হুশিয়ার করা হয় যে, গবেষণাটির ভিত্তিতে সেই গবেষক দলের প্রধান জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির গবেষক ও এপিডেমিওলজিস্ট হ্যাগাই লেভিন বলেন, শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার এই হার একই থাকলে মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তিনি তখন বলেন, আমরা যদি জীবনযাপনের ধরন, পরিবেশ ও দৈনন্দিন রাসায়নিক ব্যবহারে পরিবর্তন না আনি, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে, তা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন। এক সময় আমরা বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হব। এতে মানব প্রজাতির বিলুপ্তিও হতে পারে।

তবে ওই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না এমন বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে উদ্বেগের বলে শিকার করলেও এখনই মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার মতো কোনো আতঙ্ক নেই বলে মনে করেন। তাদের আশা- মানুষ বড় কোনো সর্বনাশের আগেই তার জন্য মঙ্গলজন বিষয়টিকেই বেছে নেবে। আনবে জীবনযাপনের ধরন, পরিবেশ ও দৈনন্দিন রাসায়নিক ব্যবহারে পরিবর্তন।

মেডিকেল নিউজ টুডে ও ইসরাইল টাইমস