• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK
বাজেট আলোচনা শুরু

ইয়াবা ঠেকাতে টেকনাফ-উখিয়া ‘বর্ডার সিল’ করার দাবি সংসদে

ইয়াবা ঠেকাতে টেকনাফ-উখিয়া ‘বর্ডার সিল’ করার দাবি সংসদে
সংরক্ষিত ছবি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্য টিপু মুন্সী বলেছেন, দেশে যে হারে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে তাতে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা ছাড়া উপায় ছিল না। কিন্তু যে মাদকটা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটা হচ্ছে ইয়াবা। এটা ঢোকার পথ হচ্ছে কক্সবাজারের দুটি উপজেলা- টেকনাফ এবং উখিয়া। যদি ওই দুটি উপজেলার সমস্ত সীমান্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া যায় তাহলে মাদকের ভয়াবহতা কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে মদের ওপর আরোপিত ট্যাক্স কমানোর দাবি জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সারা দেশে মাত্র ৯৬টি অনুমোদিত বার রয়েছে। অথচ এর বাইরে অনেক হোটেল, রেস্টুরেন্টে মদ বিক্রি হয়। কিন্তু লাইসেন্স না থাকায় তারা ট্যাক্স দেয় না। তাই যারা মদ বিক্রি করছে সবাইকে লাইসেন্স প্রদান করা হোক।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে গতকাল সোমবার বিকালে তারা এসব কথা বলেন। ঈদের ছুটি শেষে এই দিনই পুনরায় বাজেট আলোচনা শুরু হয়।

বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরুর পরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী। পরে টিপু মুন্সী বলেন, আমাদের টেকনাফ-উখিয়া উপজেলার বর্ডার যদি ‘সামহাউ’ যেকোনোভাবেই হোক সিল করে দিতে পারি তাহলে বাংলাদেশে মাদক ঢুকতে পারবে না। তাতে অন্তত ৫০ শতাংশ লড়াই সেখানেই অর্জন করা যেত। এজন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।

পরে পূর্তমন্ত্রী বলেন, আমাদের পাঁচ তারকা মানের হোটেল এবং রিসোর্টে ‘হার্ড ড্রিঙ্কসের’ ব্যবস্থা রাখা হয়। কিন্তু এই ‘হার্ড ড্রিঙ্কসে’ যে হারে কর আরোপ করা হয়েছে তা অত্যধিক। এটা কমিয়ে আনার জন্য অনুরোধ করছি। হার্ড ড্রিঙ্কসের ওপর যে হারে ট্যাক্স নেওয়া হয় তাতে বিদেশিরা খুশি নয়, ফলে বিক্রিও কম হয়। বর্তমানে সারা দেশে অনুমোদিত বারের সংখ্যা মাত্র ৯৬টি। অথচ গুলশান-বনানীতে যেকোনো রেস্টুরেন্টে ডিনার করতে গিয়ে যেকোনো ধরনের ড্রিঙ্কসের অর্ডার করলে ওরা সার্ব করে দেয়, কিন্তু তারা কোনো ট্যাক্স দেয় না। কারণ তাদের লাইসেন্স নেই। তাই যারা এসব করছে তাদের বৈধভাবে মদ বিক্রি করার সুযোগ দিয়ে দেন। যারা মদ বিক্রি করছে তাদের ‘অ্যালাউ’ করে দেন। সহস্র অবৈধ বারকে অনুমোদন দেওয়া হোক। এ ছাড়া হার্ড ড্রিঙ্কসের ওপর ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।

সুদের হার নিয়ে ক্ষোভ : ব্যাংকঋণের সুদের হার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য টিপু মুন্সী বলেন, ব্যাংকের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে ঠিকই কিন্তু ব্যাংক সেভাবে ‘প্রোঅ্যাক্টিভ’ না। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন বলে আসছেন ব্যাংকঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার জন্য। কিছুদিন ব্যাংকঋণের সুদের হার কমেছিল, কিন্তু হঠাৎ করে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ হয়েছে। এভাবে সুদ দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে পারবে না। নিজেকে পোশাক শিল্প ব্যবসায়ী দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। যেটা ব্যবসায়ীদের জন্য অস্বস্তিকর। তাই বাজেটে যেন বিশেষ করে পোশাক শিল্পের করপোরেট ট্যাক্স ১২ শতাংশই রাখা হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’ রংপুর অঞ্চলের এই সংসদ সদস্য বিড়ি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের রংপুর অঞ্চলে লক্ষাধিক বিড়ি শ্রমিক রয়েছে। বিড়ি খাওয়া, তামাক বন্ধ করা উচিত, কোনো সন্দেহ নেই। তামাকের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও প্রস্তুত। পাশাপাশি তাদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।

পর্যটন বিকাশে কর অবকাশ : মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, পর্যটন শিল্প বিকাশে চট্টগ্রাম ছাড়া সকল হোটেল, রিসোর্টকে ৫-১০ বছরের জন্য কর অবকাশ করা হোক। অবহেলিত এলাকায় যেখানে শিল্প কারখানা করুক তাতে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হোক। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে ফ্ল্যাট ক্রয়ে আয়ের উৎসের সন্ধান বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্ল্যাট ক্রয়ে কিছু বাধার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের এখানে ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থের উৎসের সন্ধান করা হয়। এতে ফ্ল্যাট ক্রয় ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। অথচ এই অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বিদেশে গিয়ে তারা ফ্ল্যাট কিনছেন। এই অর্থপাচার বন্ধ করতে হলে একটা উপায় বের করতে হবে। তাই প্রস্তাব করছি যে টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনবে সেই টাকার ১০ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে সেটা যেন সাদা করার সুযোগ থাকে। ফ্ল্যাট ক্রয়ের অর্থের উৎসের অনুসন্ধান বন্ধ করতে হবে। আর ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ফি কমাতে হবে।

করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব : মন্ত্রী বলেন, কমপক্ষে আরো দুই কোটি মানুষকে করের আওতায় আনতে হবে। এই দুই কোটি লোক যদি ২০ হাজার করে টাকা দেয় তাহলে ৪০ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে। তিনি ভ্যাট আদায়ের ব্যবস্থা ‘ডিজিটাল’ করার দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণ ভ্যাট প্রদান করলেও সেটা পুরোটা সরকারি কোষাগারে যায় না। এর কারণে প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভ্যাট আদায়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমার অনুরোধ প্রতিটি সংসদীয় আসনে অন্তত দুটি করে হলেও আল্লাহর ওয়াস্তে এমপিওভুক্ত করে নেন, না করলে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। বাজেট আলোচনায় গতকাল আরো অংশ নেন হুইপ শহিদুজ্জামান সরকার, বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব।

স্পিকারের শুভেচ্ছা বিনিময় : ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে গতকাল ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সিনিয়র সচিব ড. মো. আবদুর রব হাওলাদার, অতিরিক্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া ও ফরিদা পারভিন উপস্থিত ছিলেন।