• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

দেশজুড়ে ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ

‘আবহাওয়া পরিবর্তন ও মশা নিধন কার্যক্রম জোরালো না হওয়ায় এই অবস্থা’
দেশজুড়ে ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ
সংগৃহীত ছবি

বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি এলেও গত কয়েক দিন ধরে ঢাকাসহ সারা দেশে তাপমাত্রা বাড়ছে। আবহাওয়া পরিবর্তন ও তীব্র গরমের ফলে ভাইরাসজনিত জ্বর ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে। নানা বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন ভাইরাস জ্বরসহ হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও গরমের বিভিন্ন রোগে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভাইরাস জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্তদের ভিড় বাড়ছে। এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। জ্বরের সঙ্গে শিশুদের ভোগাচ্ছে খুসখুসে কাশি। একই পরিবারে একাধিক সদস্যের জ্বরে পড়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গত কয়েক দিন সরেজমিন ঘুরে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় দেখা যায়। ঢামেকের বহির্বিভাগে গত দেড় মাস ধরে জ্বরে আক্রান্তদের ভিড় বেশি বলে জানা যায়। তবে অধিকাংশ রোগীকে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে বহির্বিভাগ থেকেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার দেশে বেশি গরম ও মাঝে মাঝে বৃষ্টির সময়টায় জ্বর হয়ে থাকে। এটা স্বাভাবিক ও মৌসুমি জ্বর। তবে এবার জ্বরের প্রকোপ অন্য বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। গত ১০ বছরেও এমন অবস্থা দেখা যায়নি বলে জানান অনেকে। রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে বর্তমানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত প্রায় ৭০ ভাগ। ঢাকার বাইরে থেকেও রোগীরা আসছেন বলে কয়েকটি হাসপাতালের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের খবরকে জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, তীব্র গরমের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা নিধনের জোরালো কার্যক্রম না থাকায় ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। আগামী আগস্ট পর্যন্ত এ জ্বর নগরবাসীর পিছু ছাড়বে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জ্বরে আক্রান্ত অনেকেই ডেঙ্গু ও চিকুগুনিয়ার ভয়ে হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন। তবে কারো কারো আতঙ্ক অমূলক নয়, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় প্রতিদিনই গড়ে সাতজন করে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা বলেন, ভাইরাসজনিত জ্বর মানেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নয়। বিএসএমএমইউয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. এবিএম আবদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে আবহাওয়ারও বেশ কিছু পরিবর্তন হয়। এতে রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও মানবদেহে রোগ সৃষ্টিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরম, বাতাসের আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও পরিবেশ শরীরের জন্য অনুকূল নয়। ফলে মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস জন্ম নেয়। শরীরে ভাইরাস জন্মানোর প্রভাবে এক সপ্তাহের মধ্যে ভাইরাস জ্বর দেখা দেয়।’

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সাধারণত ভাইরাস আক্রমণের দুই দিন পরও জ্বর হতে পারে, আবার সাত দিন পরও জ্বর হয়। জ্বর হলে শীত শীত ভাব, মাথাব্যথা, শরীরে ও গিরায় ব্যথা, খাওয়ার অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, সারা শরীরে চুলকানি, অস্থিরতা ও ঘুম কম হওয়ার মতো লক্ষণগুলো সাধারণত দেখা দেয়। ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভাইরাস জ্বরে কিছুতেই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবনের দরকার নেই। প্যারাসিটামল সেবন করলেই হয়। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন।’