• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK

পাঁচ প্রকল্প সংশোধনে ব্যয় বেড়েছে ৬৭ শতাংশ

· ১৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা খরচে একনেকে ১৪ প্রকল্প অনুমোদন · বর্তমান মেয়াদে ১ হাজার ১৩৫ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার
পাঁচ প্রকল্প সংশোধনে ব্যয় বেড়েছে ৬৭ শতাংশ
সংরক্ষিত ছবি

চারটি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালের নভেম্বরে। ১২৭ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর। এ সময়ের মধ্যে দুবার সংশোধন করেও কাজে গতি আসেনি। এ অবস্থায় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩১১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরে এ সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় আড়াই গুণ। এ হিসাবে সরকারের তহবিল থেকে গচ্চা যাচ্ছে ১৮৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, মঙ্গলবার ১৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এর মধ্যে আটটি নতুন। বাকি ছয়টি মেয়াদ ও ব্যয় পরিবর্তন করে সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধন হওয়া ছয় প্রকল্পের মধ্যে একটির ব্যয় কমেছে। অন্য পাঁচটির ব্যয় বেড়েছে ৬৭ শতাংশ।

৩৯৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে একনেক। ২০১৫ সালে ২৯৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা খরচে এটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। এ হিসাবে ব্যয় বেড়েছে ৯৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ৩৩ শতাংশ।

২০১৭ সালে ৭০ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর-এর অ্যাপ্রোচ সড়ক প্রশস্তকরণ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। গতকাল অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের ব্যয়ও প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শীর্ষক প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে অনুমোদনের সময় এর ব্যয় ধরা ছিল ৪০ কোটি টাকা। সময় না বাড়লেও প্রকল্পটির বাস্তবায়নে বাড়তি ব্যয় হবে ৩৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে ব্যয় বৃদ্ধির হার ৯০ শতাংশ।

২০১৩ সাল থেকে চলমান ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তুলতায় চার লেন ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনীতে ব্যয় বেড়েছে ১১৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ২৩৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে হাত দিয়েছিল সরকার। সর্বশেষ সংশোধনীতে সাড়ে ৪৭ শতাংশ বাড়িয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করা তালিকা অনুযায়ী পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫২২ কোটি ৯১ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৭৭৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এখন ব্যয় উঠেছে ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৪ লাখ টাকায়। কাজ শেষ হওয়ার আগেই পাঁচ প্রকল্পে খরচ বেড়েছে ৬৭ শতাংশ।

অবশ্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনে নেওয়া প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। এখন খরচ ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় ধরে গত বছর মূল প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সৌদি আরব থেকে ৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকা সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় আধুনিক মসজিদ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে। সৌদি সরকার অর্থ না দিলেও কাজ থেমে থাকবে না।

সঙ্কট মেটাতে ১১০টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন কেনার চাহিদার বিপরীতে রেলওয়ের জন্য ৪০টি ইঞ্জিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেনা হচ্ছে ১ হাজার ১২৫টি বিভিন্ন ধরনের ওয়াগন। এ লক্ষ্যে ৩ হাজার ৬০২ কোটি টাকা ব্যয় ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন (রোলিং স্টক সংগ্রহ) শীর্ষক পৃথক প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এ প্রকল্পে ঋণ হিসেবে ২ হাজার ৮৩৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যংক (এডিবি)। আর সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ৭৬২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতায় থাকা ষাটের দশকে স্থাপন করা দীর ইউএমসি জুট মিল, যশোর জুট মিল ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গালফ্রা হাবিব লিমিটেডের আধুনিকায়নে ১৭৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরে বিজেএমসির তিনটি মিল সুষমকরণ, আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও বর্ধিতকরণ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনের বর্তমান জায়গায় ১৫ তলা ভবন নির্মাণে ১১৭ কোটি ৬৬ কোটি লাখ টাকা ব্যয় ধরে পৃথক প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

অনুমোদন পাওয়া চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ সিজিএস কলোনিতে জরাজীর্ণ ১১টি ভবনের স্থলে ৯টি বহুতল আবাসিক ভবনে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৬৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৯৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অফিস ভবন এবং অবকাঠামোগুলো সংস্কার, আধুনিকীকরণ ও নির্মাণ প্রকল্পে ১৯৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (ময়মনসিংহ জোন) প্রকল্পে ৫৬৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা ও গোপালগঞ্জ জোন প্রকল্পে ৪৮৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে এ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৩৬টি একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় মোট ১ হাজার ১৩৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল ৭ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। বিদেশি সহায়তা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। আর বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে ব্যয় করছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।