• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK

বেলুন উড়িয়ে উদযাপন, প্রকৃতি ধ্বংসের আয়োজন!

বেলুন উড়িয়ে উদযাপন, প্রকৃতি ধ্বংসের আয়োজন!
ছবি সংরক্ষিত

বেলুনের ব্যবহার সেই আদিকাল থেকেই। বহুকাল ধরে বেলুনকে মানুষ তার আকাশযান হিসেবে ব্যবহার করছে। আধুনিক যুগে বেলুনে আকাশ ভ্রমণ এক প্রকার প্রমোদ ভ্রমণ হিসেবে উপভোগ্য। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শুরুতে বা সমাপনী অনুষ্ঠানও আকাশে বেলুন উড়িয়ে উদযাপন করা হয়।

আগের দিনে শূকর, গরু বা ছাগলের মূত্রথলি দিয়ে বেলুন তৈরি হলেও ইদানীং রাবার, ল্যাটেক্স, পলিক্লোরোফেরেন, নাইলন দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণত মুখ দিয়ে জোরে ফুঁ দিয়ে ফুলিয়ে এ জাতীয় বেলুন ব্যবহূত হয়। তবে ভেতরে কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহূত হয় বলে বেলুন বাতাসের তুলনায় ভারী হয়ে যায় এবং বাতাসে ভাসতে পারে না। তাই উড়ন্ত বেলুনে ব্যবহার করা হয় হাইড্রোজেন বা হিলিয়াম। হালকা গ্যাসের বিচারে হাইড্রোজেনের পরেই এর অবস্থান। তবে হাইড্রোজেন গ্যাসে যেহেতু তাপে বিস্ফোরণের ঝুঁকি আছে তাই উদযাপনে উড়ানোর বেলুনগুলোয় সাধারণত হিলিয়াম গ্যাসই ব্যবহার করা হয়।

তবে উদযাপনের অনুসঙ্গ হিসেবে এই গ্যাস বেলুনের ব্যবহার পৃথিবীকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে। কমনওয়েলথ সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (সিএসআইআরও) করা সেই গবেষণায় দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক প্রাণী ও পাখিরা বেলুনের কারণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে পড়েছে। সেখানকার সামুদ্রিক প্রাণী ও পাখির পেটে প্লাস্টিকের পাশাপাশি পাওয়া গেছে নানা রকমের বেলুনের অবশিষ্ট।

সিএসআইআরও তাই প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বোতলের পরেই পরিবেশ দূষণের জন্য তৃতীয় কারণ হিসেবে বেলুনকে উল্লেখ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া চিড়িয়াখানা ও ফিলিপ আইল্যান্ড ন্যাচারাল পার্কও বেলুনকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে তা ওড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানায় ও প্রচারণা চালায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু স্থানে বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভিক্টোরিয়া চিড়িয়াখানার প্রধান নির্বাহী জেনি গ্রে বলেন, লর্ড হোয়ি দ্বীপে বেড়াতে গিয়েই বেলুনের ভয়াবহতা দেখেছি। পাখি, মাছ, কচ্ছপ সব প্রাণীর পেটেই প্লাস্টিকের পাশাপাশি রঙিন বেলুনের টুকরো পেয়েছি।

তিনি বলেন, প্রথমে আপনার মনে হতে পারে ছোট্ট এক টুকরো বেলুন আর কী ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এভাবে প্রতিদিন ছোট ছোট টুকরো মিলেই বড় সমস্যার জন্ম দেবে এক দিন।

তিনি জানান, লর্ড হোয়ি দ্বীপের সব পাখির বাচ্চাই তুলনামূলক কম ওজনের। কারণ তাদের সবার পেটেই আছে প্লাস্টিক আর বেলুনের টুকরা। এ ছাড়া আকাশে যখন বেলুন ওড়ানো হয় তখন উড়ন্ত পাখিদেরও ক্ষতির কারণ হয় সেটি।

তারঙ্গা চিড়িয়াখানার ওয়াইল্ড লাইফ হসপিটালের ব্যবস্থাপক লিবি হল জানান, তারাও বেশ কিছু কচ্ছপ পেয়েছেন যাদের পেট হিলিয়াম বেলুনের টুকরোয় ভর্তি।

তিনি বলেন, আমরা আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে আকাশে যখন গ্যাস বেলুন ওড়াই তখন কিন্তু তা আমাদের সুখের বার্তা নিয়ে স্বর্গে পৌঁছায় না। মাত্র আট কিলোমিটার উপরে ওঠার আগেই তা আবার নেমে আসে মর্তে। আর বেলুনগুলো চুপসে বা ফেটে গিয়ে মাটিতে বা পানিতে পড়লে পাখি বা কচ্ছপের মতো প্রাণীরা সেটা খেয়ে নেয়। তাই তিনি আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে আকাশে বেলুন ওড়ানোর পক্ষে না।