• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
BK

সব কাজেই বাধা

সব কাজেই বাধা
ছবি : ইন্টারনেট

বাবু এটা ধরে না, ওখানে যেও না, এত প্রশ্ন করতে হয় না। এ ধরনের কথার সঙ্গে আমরা যারা অভিভাবক, তারা বেশ পরিচিত। কারণ শিশুকে নিরাপদ রাখতে এবং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য এ কথাগুলোর ব্যবহার আমরা প্রায়ই করে থাকি। কেননা আমরা বড়রা মনে করি, শিশুকে কোনো কাজ থেকে বিরত রাখতে ‘না’ সূচক বাক্য ছাড়া কাজই হবে না। তাই শিশুর হামাগুড়ি দেওয়ার বয়স থেকেই নানা কাজে তাকে বাধা দেওয়া শুরু করি। ছোট শিশুটির কৌতূহলী মন প্রতিনিয়তই নতুন কিছু আবিষ্কারে উন্মুখ থাকে। সে শিশুটিকেই ছোটখাটো নানা কাজে বাধা দিয়ে তার জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রটিকে সংকীর্ণ করে দিই। আমরা অভিভাবকরা অতিরিক্ত সচেতনতার জন্য এমনসব কাজেও শিশুকে বাধা দিই, যেটি করলে তার জন্য কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। শিশু দরজা খুলতে গেলে বারণ করা হচ্ছে, রিমোট হাতে নিলে তাও হাত থেকে নিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ঘর নোংরা করবে বা খেলনা ভেঙে ফেলবে বলে খেলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে- এসব কাজের কোনোটিই শিশুর জন্য ক্ষতিকারক নয় তবু তাকে আমরা বাধা দিচ্ছি। ছোট শিশুটি প্রতিনিয়ত তার প্রতিটি কাজে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় তার মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি হয়। এতে করে নিজের প্রতি আস্থা বা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এছাড়া বৈদ্যুতিক বোর্ডে হাত দেওয়া বা কলম দিয়ে দেয়ালে আঁকা কোনটি তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, সে বিষয়টি সে বুঝে উঠতে পারে না। কেননা তাকে সব কাজেই বাধা দেওয়া হয়। শিশুকে তার সব কাজে বাধা দিয়ে নিজের মতো পরিচালনা করার চেষ্টা করে মূলত সুদূরপ্রসারী কোনো ফল পাওয়া যায় না। বরং এতে শিশুর মেজাজ খিটখিটে হয়ে সে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। অন্যদিকে সৃজনশীলতায় বাধা পড়ার কারণে তার চিন্তার জগৎ ছোট হয়ে আসে। এতে করে মানসিক বিকাশও বাধাপ্রাপ্ত হয়।

বাধা না দিয়ে উৎসাহিত করুন :

১. শিশু এমন অনেক কিছুই করতে চায়, যা দেখে বড়রা মনে করেন শিশুর জন্য এটা ঠিক নয়। সে ক্ষেত্রে ‘না’ কথাটি এড়িয়ে তাকে অন্য কিছু করতে উৎসাহ দিতে হবে। শিশু যদি কথা না শোনে, তাহলে বকা বা মারধর করা ঠিক নয়। শিশুর জন্য ক্ষতিকর কাজ ছাড়া অযথা অন্য কাজ থেকে তাকে ফেরানোর চেষ্টা না করে বড় কারো তত্ত্বাবধানে তাকে খেলতে দিন।

২. শিশুকে প্রথমেই বাধা না দিয়ে আগে দেখুন সে কী করতে চায়। ভালো কিছু হলে অবশ্যই উৎসাহ দিতে হবে আর তা যদি শিশুর জন্য ক্ষতিকর হয়, তা হলে সবার আগে তা থেকে ফিরিয়ে আনতে কৌশল অবলম্বন করতে হবে, যাতে সে পরবর্তী কোনো কাজের আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে।

৩. প্রতিটি কাজ পর্যবেক্ষণ করে শিশুর চাহিদা বোঝার চেষ্টা করতে হবে, শিশুর যে কোনো ধরনের অযাচিত আচরণের পেছনের কারণ কী- এসব বিষয়ের দিকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে অভিভাবককে। যেমন শিশু রাগ দেখাচ্ছে কোনো কারণ ছাড়াই। এক্ষেত্রে আদরের ভাষা দিয়েই কেবল শিশুকে বোঝা সম্ভব।

৪. সৃজনশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে তার যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়। এর থেকে সে নতুন নতুন ধারণা লাভ করে এবং জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পায়। তার ভেতরে চিন্তার জগৎ তৈরি হয়। সে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ লাভ করে, জড়তা থাকে না। সে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে থাকে।

৫. শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষণীয় টিভি অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও শিশুদের চিন্তার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। এতে তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ে।

কোন শিশুর ভেতর কী ধরনের প্রতিভা সুপ্ত আছে, তা আমাদের জানা নেই। তাই শিশুকে তার স্বাভাবিক কাজে বাধা না দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কৌতূহল মেটানোর সুযোগ দিন।