• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৪ মহররম ১৪৪০
BK

রফতানি আয় বেড়েছে ৫.৮১ শতাংশ

আয়ের ৮৩ শতাংশই তৈরি পোশাক থেকে *আয় বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি
রফতানি আয় বেড়েছে ৫.৮১ শতাংশ
সংগৃহীত ছবি

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ আয়ের পরিমাণ ৫.৮১ শতাংশ বেশি। রফতানি আয় বৃদ্ধিতে বরাবরের মতো বড় ধরনের অবদান রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৬১ কোটি  ৪৭ লাখ ডলার, যা মোট আয়ের প্রায় সাড়ে ৮৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় তৈরি পোশাক খাতে আয় বেড়েছে ৮.৭৬ শতাংশ।

এদিকে, রফতানি আয় বাড়লেও অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বিদায়ী অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল সাড়ে ৩৭ হাজার কোটি ডলার। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ২.২২ শতাংশ। হিমায়িত খাদ্য ও জীবন্ত মাছ, প্লাস্টিক পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কাঁচাপাট, প্রকৌশল পণ্য এবং বিবিধ পণ্য রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম আয় হয়েছে।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) রফতানি আয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইপিবি।

অপরদিকে, জুন মাসে নির্ধারিত রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। ৩৬২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ২৯৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এ হিসাবে জুন মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ১৮.৮৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কম হয়েছে ৩.০৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ হাজার ১৬ কোটি ডলার। অর্থবছর শেষে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৬১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১.৫১ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৮১৪ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। এ হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতে আয়ের প্রবৃদ্ধি ৮.৭৬ শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতের মধ্যে নিটওয়্যার থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। এ খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলার। অপরদিকে, ১ হাজার ৫০৬ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ওভেন রফতানিতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এ হিসাবে ওভেন রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় বেশি হয়েছে ২.৪৩ শতাংশ।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সম্প্রতি ডলারের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। মুদ্রা বিনিময় হারে বেশিরভাগ সময়ই ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণে তৈরি পোশাক খাতের রফতানিকারকরা সে সুবিধা নিতে পেরেছেন। এ কারণে তৈরি পোশাক খাতে রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু তৈরি পোশাক খাতের বাইরে যেসব পণ্য বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়, সেসব দেশের মুদ্রাও ডলারের বিপরীতে অবমূল্যায়িত হয়েছে। ফলে সেসব দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এ কারণে পণ্যের দর কম পাওয়া গেছে কিংবা পণ্যের রফতানির পরিমাণ কম হয়েছে। ফলে তৈরি পোশাক বহির্ভূত পণ্য রফতানিতে আয় কমেছে। 

রফতানি আয়ে পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পণ্য বহুমুখীকরণে গুরুত্ব আরোপ করে এ গবেষক বলেন, পণ্য বহুমুখীকরণে আমরা অনেক আগে থেকেই পিছিয়ে। তৈরি পোশাক খাতের নির্ভরতা কমাতে অন্যান্য পণ্যের জন্য শুধু কিছু কর সুবিধা দিলেই হবে না, এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। তা না হলে পোশাক খাত নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না।    

প্রাথমিক ও তৈরি পণ্য— এ দুইভাগে রফতানি আয়ের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ইপিবি। প্রাথমিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ এবং কৃষিজাতীয় পণ্য। প্রাথমিক পণ্যে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় বেড়েছে ৬.৪০ শতাংশ। ১১১ কোটি ডলারের বিপরীতে আয় হয়েছে ১১৮ কোটি ২১ লাখ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে একই সময়ে আয় হয়েছিল ১০৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ আগের অর্থবছরের তুলনায় রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯.৫০ শতাংশ। 

অপরদিকে তৈরি পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদিত পণ্য। তৈরি পণ্য থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৬৩৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তৈরি পণ্যে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ২.৪৮ শতাংশ। এ ছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৩৫৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এ হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় বিদায়ী অর্থবছরে আয় বেড়েছে ৫.৬৯ শতাংশ।