• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪, ১৩ মহররম ১৪৪০
BK

মধ্যপ্রাচ্যে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে আইএস

মধ্যপ্রাচ্যে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে আইএস
ছবি : ইন্টারনেট

সিরিয়ায় রাজনৈতিক ও বহুদলীয় কোন্দলের মাঝে নীরবে আবারো সংঘবদ্ধ হচ্ছে ইসলামিক স্টেট। সম্প্রতি দেশটির রাকায় আইএস হামলার পর বিষয়টি বিশ্লেষকদের নজরে আসে। ব্রিটিশ মিডিয়া ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন স্থানে আইএস কর্মীরা একত্রিত হচ্ছে। ধারণা করা হয়, এখনো সিরিয়ায় আইএসের আট থেকে দশ হাজার সক্রিয় যোদ্ধা রয়েছে। ইরাকের তুলনায় অন্তত দশগুণ বেশি আইএস যোদ্ধা রয়েছে সিরিয়ায়।

সম্প্রতি ইসলামিক স্টেটের নেতা আবু বকর আল বাগদাদির সন্তান হুদায়েফ আল বাদরি হোমস শহরে নিহত হয়েছে। তবে আমেরিকা এবং রাশিয়া উভয়েই সিরিয়া এবং ইরাকে বাগদাদির অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ইরাক থেকে পাওয়া এক রিপোর্টে বলা হয়, দেশটির কায়েম শহরের কিছু এলাকায় আবারো বাগদাদির নেতৃত্বে যোদ্ধারা একত্রিত হচ্ছে। বিদ্রোহী যোদ্ধা সামি আবদুল্লাহ জানান, আমাদেরকে পশ্চিমা দেশগুলো বলে আসছে কীভাবে তারা দায়েশকে শেষ করেছে। তাদের মতে দায়েশ শেষ। কিন্তু বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। তাদের অনেকেই অস্ত্র, গাড়ি এবং অন্যান্য উপাদান নিয়ে পালিয়ে গেছে। এখন তারা আবারো শুরু করতে যাচ্ছে লড়াই। ক্রমশ তাদের শক্তিমত্তা বাড়ছে।

ওয়াশিংটনের সমর্থনপুষ্ট কুর্দি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। কিন্তু চলতি বছর তুরস্কের সেনাবাহিনী সিরিয়ায় অগ্রসর হলে কুর্দি বাহিনী তুর্কি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। আর এই সুযোগ নিচ্ছে ইসলামিক স্টেট ছাড়াও অন্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো। একই সময়ে সিরিয়ার ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পেয়ে আসছে। কিন্তু রাশিয়া ক্রমাগত অভিযোগ করে আসছে, এসডিএফ ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই না করে ভূমির কর্তৃত্ব গ্রহণ নিয়েই ব্যস্ত আছে।

আইএসের পুনরুত্থানে হুমকির মুখে সিরিয়ায় অবস্থানরত রুশ এবং ফরাসি যোদ্ধারা। সম্প্রতি রাশিয়ার কয়েকটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আইএস। ফরাসি যোদ্ধারা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গেলেও বর্তমানে তাদের বিভিন্ন বিদ্রোহী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যকার উপদলগুলোকে সামলাতেই সময় যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে আইএস প্রায় দশজন বিদ্রোহী সেনাকে হত্যা করেছে। এ ছাড়াও ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমাংশের শামিয়াহ বাদিয়া, ইয়ারমুক বেসিন এবং দেইর এজোরে নতুন করে লড়াই শুরু করেছে আইএস। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, আইএস এখন নতুন মিত্র খুঁজতে ব্যস্ত। সংগঠনটির স্লিপার সেলের যোদ্ধারা আল-কায়েদা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।