• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৬ সফর ১৪৩৯
BK
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

কোটা আন্দোলনকারীরা সন্তানসম, দাবি করতেই পারে

কোটা আন্দোলনকারীরা সন্তানসম, দাবি করতেই পারে
সংরক্ষিত ছবি

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে তারা আন্দোলন করছে। তারা আমাদের ছেলেমেয়ের মতো, সন্তানসম; দাবি করতেই পারে। তাদের চাকরির ব্যবস্থা করাও কিন্তু আমাদের দায়িত্ব। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সহানুভূতিশীল, তার মাতৃহূদয় আছে- উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাদের (আন্দোলনকারীদের) সহানুভূতির সঙ্গে দেখতে হবে। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সামনেই উপস্থিত ছিলেন।

বেকারত্ব, মাদক, খাদ্যে ভেজাল ও সড়কের ভোগান্তির প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার যখন রাস্তা দিয়ে যান তখন রাস্তা বন্ধ থাকে। ওনারা জানেন না রাস্তা বন্ধ থাকার জন্য মানুষের কত দুর্ভোগ হয়। সেই যানজট ছাড়তে ছাড়তে রাত হয়ে যায়। কিন্তু যানজট ছাড়ে না। আর রাস্তাঘাট অতি বৃষ্টির কারণে সব নষ্ট হয়ে গেছে। সংসদে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এখানে যারা বসে আছেন তারা সবই জানেন। ‍কিন্তু কেউ বলে না সাহস করে। কারো সাহস নেই বলার। এরপর এমপিদের প্রশ্ন করে তিনি বলেন, আপনারা বলেন না কেন? সড়ক পরিবহন মন্ত্রী আজ সংসদে নেই। কিন্তু যানজটের কারণে সব বন্ধ থাকে। দেশের রাস্তাগুলোর কোনোটায়ই চলা যায় না।

নদী থেকে অবাধে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জমি থেকে পলি মাটি তুলে ইটভাঁটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়দিন পর এসব জমিতে ফসল ফলবে না। এসব করছে প্রভাবশালীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এগুলো দেখার কেউ নেই নাকি? সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ এত বেশি যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তারপরও থাকে বেশি ভিড়। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যাও অনেক কম থাকে। ধনীরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে আসছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা দেশেই করতে হবে। এ সময় দেশে শিক্ষার মান কমে গেছে দাবি করে বাজেটে শিক্ষা খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।