• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৭ সফর ১৪৩৯
BK

অক্টোবরে চূড়ান্ত আন্দোলন

প্রস্তুতি চলছে বিএনপিসহ সব অঙ্গ সংগঠনে
অক্টোবরে চূড়ান্ত আন্দোলন

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, এবার হবে সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর আন্দোলন। তার আগে অঙ্গ সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কাজ শেষ করা হবে।

এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ৪খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এখন পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ মহানগর নাট্যমঞ্চে তারা প্রতীকী অনশন করেছেন। তবে বেশিদিন আর তা শান্তিপূর্ণ থাকবে না। তৃণমূল নেতাকর্মীরা কঠোর আন্দোলন চান। তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী তেমনই প্রস্তুতি চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা পেলে শিগগিরই তারা চূড়ান্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। বিএনপির হারানোর আর কিছু নেই। পিছু হটারও সুযোগ নেই।

কবে নাগাদ চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা এখনই বলা যাবে না। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হলেই তা শুরু হবে। বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটের সিটি নির্বাচনের পর সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আন্দোলনে যাব- বলেন ফখরুল।

বিএনপির থিঙ্কট্যাঙ্ক হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ এ বিষয়ে বলেন, আন্দোলনের বিকল্প নেই। এর মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে তার আগে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। বার বার আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়া যাবে না।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রস্তুতি নিতে বলছেন। সময় হলে চূড়ান্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানিয়েছেন তিনি।

অক্টোবর নাগাদ চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হতে পারে বলে সবাইকে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারেক রহমান। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে এবং পরের বছর ২০১৫ সালে দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলন করেছে বিএনপি। কিন্তু সে আন্দোলন দীর্ঘদিন চলায় ফলাফল ঘরে তোলা যায়নি। এবারের পরিকল্পনা হলো, অল্প সময়ে কার্যকর গণআন্দোলন গড়ে তুলে বিএনপির দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে অঙ্গ সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন চলছে। বিশেষ করে যেসব জেলায় দীর্ঘদিন অঙ্গ সংগঠন ছিল না সেগুলোর কমিটি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীতে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। ফলে ঢাকা এখন আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত। শুধু ঘোষণার অপেক্ষা।

বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, অনেক জেলায় দীর্ঘদিন ছাত্রদলের কোনো কমিটি ছিল না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে এরই মধ্যে সেসব কমিটি হয়েছে। বাকি জেলাগুলোতেও কাজ চলছে। ঘোষিত আংশিক কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। কোরবানির ঈদের আগে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ হয়ে যাবে। এরপর দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ পেলে একযোগে আন্দোলনে নামবেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব বাংলাদেশের খবরকে জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে তারা জেলা কমিটিগুলোর কমিটি গঠন করছেন। শিগগিরই বাকি জেলাগুলোর কমিটি হবে। কোরবানির ঈদের পর দল যখন নির্দেশ দেবে তখন সারা দেশের যুবকদের সংগঠিত করে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়বেন নেতাকর্মীরা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এখন আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। সে মোতাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের আওতাধীন জেলাগুলোর নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।  

আন্দোলন-সংগ্রামের প্রস্তুতি সম্পর্কে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সহজ পথে দাবি আদায় না হলে সময়মতো কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলবে বিএনপি। দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠায়। এজন্য প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তুতি শেষ হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা বসে আন্দোলনের ছক তৈরি করবেন।