• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
BK
ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা মজুরি দাবি

জুলাইয়ে ঘোষণা না হলে আগস্টে পোশাক কারখানা বন্ধ

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণা করে তা বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে তিনটি সংগঠন। চলতি জুলাই মাসের মধ্যে এ দাবি পূরণ না হলে আগস্টের প্রথম দিন থেকে কারখানা বন্ধ রেখে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশে পোশাকশিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, সম্মিলিত পোশাকশ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ মেটাল কেমিক্যাল গার্মেন্টস অ্যান্ড টেইলার্স ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মানববন্ধন ও মিছিল থেকে এ হুশিয়ারি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জানুয়ারি মাসে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ড ঘোষিত হলেও অদৃশ্য কারণে মাত্র দুটি সভা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মজুরি গঠনের ছয় মাসের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধির সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে সর্বনিম্ন মজুরিসহ সব গ্রেডের মজুরি সুপারিশ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বর্তমান বোর্ড মালিক তোষণনীতি অনুসরণ করছে।

পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য গত ১৪ জানুয়ারি স্থায়ী মজুরি বোর্ডের পুনর্গঠন করে সরকার। ওই বোর্ডকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। সে সময় এ মাসেই শেষ হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, ইতোমধ্যে সরকারি মিল-কারখানার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের বর্তমান ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রফতানি শিল্পের খেটে খাওয়া শ্রমিকদের মজুরি সবচেয়ে কম, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

বাংলাদেশ পোশাকশিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণা করা না হলে ১ আগস্ট থেকে কারখানা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা হবে।

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার মানববন্ধনে বলেন, শ্রমিকরা মানসম্মত বেতন না পেলে তা মধ্যম আয়ের দেশ গড়ায় অন্তরায় হবে। শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চান তিনি।

এর আগে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর। তিন হাজার টাকা মূল বেতন ধরে ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা হয়েছিল তখন। নতুন কাঠামোয় ওই বেতন তারা পাচ্ছেন ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে। বাংলাদেশের প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাকশিল্পে ৪০ লাখের মতো শ্রমিক জড়িত, যার বেশিরভাগই নারী।

মানববন্ধন শেষে একটি মিছিল প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে।

পোশাকশ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেটাল কেমিক্যাল গার্মেন্টস অ্যান্ড টেইলার্স ওযার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি শহীদুল্লাহ বাদল, সম্মিলিত পোশাকশ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হাসান নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক রহিমা আক্তার রূপা, আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরামের সভাপতি মর্জিনা আক্তার প্রমুখ।