• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০
BK

মেঘনায় নাব্য সঙ্কটে ইলিশের আকাল

মেঘনায় নাব্য সঙ্কটে ইলিশের আকাল, কমছে না দাম
ছবি: বাংলাদেশের খবর

মেঘনার ইলিশের ওপর হাজার হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করে।  শুধু চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলারই প্রায় দশ হাজার পরিবার যুক্ত রয়েছে এর সঙ্গে।  জুলাই মাসের প্রথম দিন থেকে ভরা মৌসুম শুরু হলেও ইলিশের দেখা নেই নদীতে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন জেলে ও আড়তদাররা। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যাপ্ত ইলিশ পেতে নদীতে ড্রেজিংয়ের বিকল্প নেই। আর সরবরাহ কম থাকায় বাজারে এখনো মাছটির দাম কমছে না।   

হাইমচরের আলগী বাজারের কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, ইলিশের দাম অনেক বেশি। আমাদের নাগালের বাইরে। যে মাছের কেজি হওয়ার কথা ৪০০ টাকা, তা এই মৌসুমে এখনো ৮০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদামতো মাছ পাওয়া যাচ্ছ না। জোগান কম থাকায় ইলিশের দাম বেশি।

স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, নদীতে প্রতিদিন জাল ফেললেও মাছ ধরা পড়ছে না। এতে বসে বসেই সময় কাটচ্ছে। বেকার থাকলে তো সংসার চলবে না।

তেলিরমোড়, চরভৈরবী, হাইমচর, কাটাখালীতে গেলে কয়েকজন আড়তদারের সঙ্গে কথা হয়।  ইলিয়াস লিটন, দাদন, মন্টু পেদা, খোকন বিশ্বাস, আহসান বেপারী, বাদশা পেদা, নোয়াব মোল্লা সবার প্রায় একই বক্তব্য। তারা জানান, চলতি বছর মেঘনায় ইলিশ মাছ অনেক কম ধরা পড়ছে। যা পাওয়া যাচ্ছে তাতে লাভ দূরের কথা, খরচই উঠছে না।

হাইমচর এলকায় মেঘনায় মাছ ধরতে আসা পার্শ্ববর্তী বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার জেলে ছোবহান হাওলাদার, হুমায়ূন মৌসাল, নুরুর মানিক বেপারী, শফিক মাঝি, জাকির ঢালী, কামাল বলেন, ট্রলার নিয়ে একবার নদীতে জাল ফেললে ইঞ্জিনের তেলসহ প্রায় তিন-চার হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ মাছ পান এক হাজার টাকার মতো। এতে তারা সংসার চালাতে পারছেন না। আর দেনার টাকাও শোধ করতে পারছেন না।

হাইমচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব রশিদ বলেন, ইলিশ গভীর পানির মাছ। এ বছর মেঘনায় নাব্য কম থাকায় আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থেকে শুরু করে চাঁদপুরের ষাটনল, মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত নদীতে ড্রেজিং জরুরি হয়ে পড়ছে।  পুরো নদীতে চর জেগে নাব্যতা কমে গেছে। তাই এত কম পানিতে ইলিশ আসছে না। তবে পদ্মা মেঘনায় পানি আরো বাড়লে ইলিশ পাওয়া যাবে বলে তার আশা।